বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার (তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা) ছাড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে রিজার্ভ বাড়ার রেকর্ড গড়ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি মাসে ৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে আট মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
গত কয়েক বছরে আগের তুলনায় দ্রুত গতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর রিজার্ভ ১২ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করে। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ১৩ বিলিয়নে পৌঁছায়। ওই বছরের ৫ মার্চ তা ১৪ বিলিয়ন, ৭ মে ১৫ বিলিয়ন, ১৩ আগস্ট ১৬ বিলিয়ন, ২২ অক্টোবর ১৭ বিলিয়ন ও ১৯ ডিসেম্বর ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল তা ২০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। এরপর একই বছরের ১৬ এপ্রিল তা ২১ বিলিয়ন ও ৭ আগস্ট ২২ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার, ২৯ এপ্রিল ২৪ বিলিয়ন ও ২৫ জুন ২৫ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করে। ২০১৫ সালের ১৭ আগস্টে ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং পরের মাসের ২৯ তারিখ ২৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালের ২১ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলে এই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে। স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রা ও ডলার এই তিন ক্যাটেগরিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রাখা হয় দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে। এই অর্থ বিভিন্ন দেশের বন্ড ও বিলে বিনিয়োগ করা হয়। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচাও করে বাংলাদেশ।
