কিছু কিছু পেশা থাকে যাহার প্রতি মানুষের অধিক আস্থা রাখিতে হয়, মানুষ ভরসা করিয়া থাকে। ঐসকল পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও অধিক দায়িত্বশীল হইতে হয়। ইহাদের মধ্যে অন্যতম হইল ফার্মেসি। এই ফার্মেসি তথা ঔষধ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যবসার সহিত মানুষের জীবন-মৃত্যু জড়াইয়া আছে।
বিশেষ করিয়া এই করোনা ভাইরাসের সময়ে তাহাদের অধিক দায়িত্বশীল হওয়া অধিক প্রয়োজন। অথচ তাহাদের বাণিজ্যে যদি অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্য লইয়া ঝুঁকি দেখা দেয় তাহা হইলে উদ্বেগের সীমা-পরিসীমা থাকে না।
ইত্তেফাকের এক রিপোর্ট হইতে জানা গিয়াছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও বেশি মূল্যে গুঁড়া দুধ বিক্রয় করিবার অপরাধে রাজধানীর লাজ ফার্মা এবং তামান্না ফার্মেসিকে জরিমানা করিয়াছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ দল।
রিপোর্টে বলা হইয়াছে, অভিযান পরিচালনা দল মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয়ের অপরাধে লাজ ফার্মার শান্তিনগর শাখাকে ১০ হাজার টাকা এবং ১ হাজার ৭০০ টাকার আমদানিকৃত শিশুখাদ্য (গুঁড়া দুধ) ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রয় করায় শান্তিনগরের তামান্না ফার্মেসিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হইয়াছে।
লাজ ফার্মা দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ফার্মেসি। মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয়ের অপরাধ এবং জনস্বাস্থ্যে ক্ষতির বিষয়টি তাহাদের অজানা থাকিবার কথা নহে। সাম্প্রতিক সময়েও তাহাদের বিভিন্ন শাখায় অভিযান চালাইয়া জরিমানা করিয়াছে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দল। তাহার পরও এই ধরনের অপরাধের কারণ কী?
একের পর এক এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য ঔষধ প্রশাসন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে কি না তাহা আমাদের জানা নাই। ঔষধ প্রশাসন তাহাদের এহেন অন্যায়ের জন্য পূর্বে সতর্ক করিয়াছে কি না তাহাও আমাদের জানা নাই।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবসায় নিয়োজিত থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান এইরূপ আচরণ করিলে তাহাদের ব্যবসার লাইসেন্সের যোগ্যতা কতটা থাকে তাহা ঔষধ প্রশাসনকে ভাবিতে হইবে। তামান্না ফার্মেসিও ছোটো কোনো প্রতিষ্ঠান নহে। তাহাদেরও রহিয়াছে বিভিন্ন স্থানে শাখা। অধিক মূল্যে শিশুখাদ্য বিক্রয়ের এই মানসিকতা তাহারা কেন পোষণ করেন উহাও ভাবিবার বিষয়।
এই সকল প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান এহেন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকিলে ছোটোখাটো ফার্মেসিগুলি কী করিতে পারে তাহা অনুমেয়। সুতরাং ইহাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া ছাড়া কোনো পথ নাই। প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিলেই কেবল অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সাবধান হইতে পারে।
সেই ক্ষেত্রে কেবল জরিমানায় সীমাবদ্ধ না থাকিয়া আরো কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইবে। মানুষের স্বাস্থ্য লইয়া এইরূপ বাণিজ্য করিবে—ইহা একটি ফাজলামি নাকি! ভবিষ্যতে আমরা দেখিতে চাই, কোনো ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ করিলে এবং বিক্রয় করিলে যাহাতে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করিয়া দেওয়ার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শুধু ফার্মেসি কেন, কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানকেই মানুষের জীবন লইয়া ব্যবসা করিতে দেওয়া যায় না।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
