পূর্ব সুন্দরবনে রেড অ্যালার্টের মধ্যেও হরিণ শিকার

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:১০

দুইটি হরিণ ও মাংস উদ্ধার

পিরোজপুর অফিস,  শরণখোলা ও মঠবাড়িয়া সংবাদদাতা

পূর্ব সুন্দরবনে রেড অ্যালার্টের মধ্যেও বেপরোয়া হরিণ শিকারিদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিনে লোকালয় থেকে দুটি হরিণ উদ্ধার ও হরিণের মাংস আটক করা হয়েছে। বন বিভাগ বৃহস্পতিবার বিকালে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রাম থেকে ১০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে। পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ দিন শরণখোলা স্টেশনের বনরক্ষীরা শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের লাগোয়া সোনাতলা গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ঐ গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা জনৈক জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ির পাশের মাঠে গোবরের স্তূপের মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় ককশিটে বক্সে ভরা ঐ হরিণের মাংস উদ্ধার করেন। তবে এ সময় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, এ ব্যাপারে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাংস আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মাটি চাপা দেওয়া হবে। এদিকে গতকাল শুক্রবার ও গত বুধবার রাতে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার পৃথক দুটি গ্রাম থেকে সুন্দরবনের দুটি জীবিত হরিণ গ্রামবাসী উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের কাছে মাথাভাঙ্গায় মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পড়ে বেরিয়ে আসার পথে মুসল্লিরা একটি হরিণ দেখতে পান। পরে হরিণটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলে সুন্দরবন বন বিভাগের জ্ঞানপাড়া বন অফিসের কর্মীরা তা নিয়ে গিয়ে সুন্দরবনে অবমুক্ত করেন। বুধবার রাতে সাপলেজার কাছে জেলেরা নদীতে সাঁতারকাটা অবস্থায় একটি হরিণ উদ্ধার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেন। ইউপি চেয়ারম্যান হরিণটি বন বিভাগের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের ধারণা এ হরিণ দুটি চোরা শিকারিরা সুন্দরবন থেকে ধরে এনেছিল এবং শিকারিদের কাছ থেকে ছুটে যায়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরিণ শিকারিদের তত্পরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্ব সুন্দরবনে রেড অ্যালার্ট জারি ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।