অণুগল্প

আমি কোথায় পাব তারে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৪

আলতাফ হোসেন

 

মাত্রই কদিন আগে ওপেন হার্ট অপারেশন হয়েছে। অপারেশনের পর শেষ তিনমাস সারা পৃথিবীর কষ্ট যেন আমার শরীরে এসে ভর করেছিল। সেসব কষ্ট একটু একটু করে যখন কমতে শুরু করল তখনই করোনা এসে যেন দোরগোড়ায় দাঁড়াল! আমার ৭৩ বছরের ঝুরঝুরে শরীরখানা পেলে করোনা ভাইরাস যে চেটেপুটে খাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেজন্য আমি আর রোকেয়া বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো আমাদের আরণ্যিক বাড়িতে বন্দি আছি। সময় যেন ঝুলে আছে আমাদের বাড়ির জংলা গাছপালার ফাঁকে। আহা জীবন কী সুন্দর! কিন্তু সুন্দরের বিপরীতে অসুন্দর আসবেই, নইলে সুন্দরের কদর থাকবে কেমন করে?

কী অবাক করা ব্যাপার! শুক্রবার শেষ রাতে দেখলাম করোনা আমার বিছানার পাশে এসে দাঁড়িয়ে আছে। কাঁটা কাঁটা গোল গোল শজারুর মতো! করোনা চুকচুক করে দুঃখ করল। বলল, আলতাফ, তোর তো দিন শেষ!

আমার ঘড়িতে ঢংঢং করে ক’টা যেন বাজল। আতঙ্কে গুনতে পারিনি। করোনা বলল, তোরা তো তিনজন। তুই, তোর বউ আর ছেলে। একজনকে আমাদের চাই। কাকে নেব, বল?

আমি বড়ো করে ঢোক গিললাম। ঢেঁকি গেলার মতো করে বললাম, আমাকেই নাও। এক হাজার বছর বাঁচলেও মনে হবে জীবন এত ছোটো কেন। তাই এই তিয়াত্তরেই চলে যাব, যদি তাতে পরিবারের একটু উপকারে লাগি!

—বেশ। তোকেই নেব। তা পরকালে তুই কার সঙ্গে থাকতে চাস? তোর তো আবার দুই বিয়ে!

—দ্বিতীয় বউয়ের সঙ্গে থাকতে চাই।

—কেন? তোর ওপর তো উঠতে বসতে খরবদারি করে রোকেয়া।

—আমার প্রথম বউ হাস্না উচ্চশিক্ষিত, স্মার্ট, সুন্দরী। সে ঠিক কাউকে না কাউকে জোগাড় করে নিতে পারবে। কিন্তু রোকেয়া বড্ডো আনাড়ি, আনস্মার্ট। আমি ছাড়া ওর আর গতি নাই...।

এটা শোনার পর করোনা আমাকে খুব করে ঝাঁকাতে লাগল। আমি হতবিহ্বল হয়ে গেলাম। হঠাত্ সম্বিত ফিরে পেলাম। রোকেয়া বিরক্ত গলায় বলল, কী ব্যাপার এতবার হাস্না হাস্না করছিলে কেন?

আমি কোনো কথা বললাম না। বিছানা থেকে উঠে পানি খেলাম। তারপর রোকেয়াকে বললাম, করোনা এসেছিল!

রোকেয়া ভূত দেখার মতো চমকে উঠল! আমি একটু খুকখুক করে কাশলাম। রোকেয়া গায়ে হাত দিয়ে বলল, তোমার জ্বর এসেছে নাকি!

করোনার সঙ্গে কী কথা হলো সেটা রোকেয়াকে সংক্ষেপে বললাম।

রোকেয়া বলল, সত্যিই তুমি পরকালে আমার সঙ্গে থাকতে চাও?

আমি বললাম, করোনার কসম বলছি।

রোকেয়া মন খারাপ করে বলল, কিন্তু আমি যে নাইনে পড়ার সময় একটা ছেলেকে খুব ভালোবাসতাম! নামাজ আদায়ের সময় আল্লার কাছে সবসময় কই, আল্লা, এইপারে তো তারে পাইলাম না, পরকালে যেন ঐ ছেলেরেই স্বামী হিসেবে পাই!