করোনায় ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:১৬

এম. এ. মাসুম

 

দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস   (কোভিড-১৯), যা মানুষ ধারণাও করতে পারে নাই। মহামারির ক্ষতি এবং দেশগুলোর কঠোর অবস্থান দুটোর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ধাক্কা খাচ্ছে। মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্বকে অর্থনৈতিক মন্দার দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে দেশকে করোনা থেকে রক্ষার করার জন্য সারাদেশে সাধারণ ছুটির আওতায় সকল ব্যবসা-বাণিজ্য, শপিং মল, অফিস-আদালতসহ রাস্তাঘাটও বন্ধ আছে। সারাদেশে মূলত চলছে অঘোষিত লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মানুষ নিজগৃহে বন্দি জীবনযাপন করছে। ফলে  সশরীরে বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ই-কমার্স শপিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

বর্তমান অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন বা ই-কমার্স ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা বিভিন্ন আপদকালে জনসাধারণের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সহজ মাধ্যম হতে পারে বর্তমান প্রজন্মের এ ব্যবসা। এ সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে এবং সুলভ মূল্যে সেবা দেওয়া এবং সেবা নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তির কল্যাণে মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে বসে নিজেদের পছন্দমতো পণ্য ক্রয়ের আধুনিক মাধ্যম অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটা। অ্যাপসের মাধ্যমে অর্ডার দিলেই আপনার ঘরে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যাবে এসব পণ্য। পোশাক, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি তৈরি খাবারও পেয়ে যাবেন মাত্র কয়েক মিনিটে।

করোনায় সারাদেশ যখন লকডাউন তখন সবাইকে সহযোগিতা করতে কাজ করে যাচ্ছে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অনলাইন শপ বা ই-কমার্স শপগুলো। এ সময়টাতেই বেড়েছে তাদের অর্ডার। যে কারণে বেড়েছে ডেলিভারিকর্মীর চাহিদাও। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন খুঁজছে তাদের নতুন সহকর্মী, সহযোদ্ধা। তাই এবার মিলছে নতুন কাজের সুযোগ।

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী নিয়ে কাজ করছে এমন ই-কমার্স শপগুলোর মধ্যে রয়েছে চালডাল ডটকম, আজকের ডিল, দারাজ, ইভ্যালী, বাগডুম প্রভৃতি। এ সাইটগুলো অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি নিত্যপণ্য কেনাকাটার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

করোনায় সব কিছু বন্ধের মধ্যেও ই-কমার্স দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করেছে। ই-কমার্স বা ডিজিটাল শিল্পকে আরো ভালো করে গড়ে তুলতে চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এই চারটি বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট সংযোগ, লেনদেনের ব্যবস্থা, ডেলিভারি সুবিধা ও বিশ্বাস। চারটি বিষয় সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো বেগবান হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই-কমার্স শপিং ট্রেন্ডের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে বাংলাদেশ। এটি উভয় ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। আজকাল সময় ও শক্তি বাঁচাতে সবচেয়ে সহজ উপায় হিসেবে ক্রেতারা অনলাইন শপিংকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সর্বোপরি বলা চলে যে, অনলাইন শপিং ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধাগ্রহণে মানুষকে আগ্রহী করে তুলছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

ই-কমার্সে ব্যবসা করতে গেলে বিশ্বাস রাখতে হবে। পণ্যটি আসবে, যা অর্ডার করা হয়েছে তা ঠিক আছে। এছাড়া পণ্যের মানও ঠিক রাখতে হবে। বর্তমানে আমরা যে ব্যবসার কথাই চিন্তা করি না কেন, প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে ঐ ব্যবসার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রায় দুই হাজারের মতো উদ্যোক্তা ই-কমার্স নিয়ে কাজ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়াকেও ই-কমার্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন শুধু ছবি শেয়ার করা কিংবা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না সোশ্যাল মিডিয়াকে, এটা মানুষের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক যে কর্মকাণ্ড সেটাকেও কিন্তু বেগবান করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন মানুষ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এটা ইতিবাচক। সোশ্যাল মিডিয়া আমরা কিভাবে ব্যবহার করব, সেটা নির্ভর করছে ব্যবহারকারীর ওপর। আমরা ইচ্ছে করলে ভালো কাজেও ব্যবহার করতে পারি, আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে পারি। কিংবা অন্য কাউকে ক্ষতি করতেও সেটা  ব্যবহার করা যায়। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ইতিবাচক হিসেবেই দেশের বেশির ভাগ মানুষ ব্যবহার করছেন।

২০২১ সালের মধ্যে দেশ পুরোপুরি ডিজিটাল হবে এমন ভিশন নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যাতে একজন নাগরিকও এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হন তার জন্য গ্রামপর্যায় পর্যন্ত কানেক্টিভিটি তৈরি করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন অপটিক্যাল ফাইবারের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ প্রায় শেষ। কাজটি শেষ হলে শহর ও গ্রামের সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকবে না। দেশের সব মানুষ ইন্টারনেটে সমান সুযোগ ভোগ করবেন। ফলে ই-কমার্সের সম্ভাবনা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে এ পেশায় যুক্ত হয়ে অনেকে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পেরেছেন। পাশাপাশি বর্তমান চলমান করোনা ভাইরাস এবং যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ ধরনের ব্যবসায় জনসাধারণের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করাটা সহজ। করোনার মতো বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের কারণে যারা চাকরি হারাবেন তাদের জন্য অনলাইন ব্যবসা নিশ্চিত আয়ের সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

ছবি : ইন্টারনেট