আহলান সাহলান মাহে রমজান

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৭

খোশ আমদেদ মাহে রমজান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়া বত্সর ঘুরিয়া আবার আসিল রমজানুল মুবারক। আজ হইতে বাংলাদেশে শুরু হইয়াছে পবিত্র রমজানের সিয়াম বা রোজা। গতকাল রমজানের চাঁদ দেখিয়া তারাবি নামাজ আদায় ও ভোর রাত্রে সেহরি খাইয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় মাসব্যাপী রোজাব্রত পালন শুরু করিয়াছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। এবার পবিত্র এই রোজা এমন এক সময়ে পালিত হইতেছে, যখন সারা বিশ্বে দেখা দিয়াছে মহাদুর্যোগ ও মহামারির ঘনঘটা। ছোঁয়াচে রোগ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। এবারের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন বিধায় আলেম-উলামাগণ সালাতুত তারাবি নিজ নিজ গৃহে আদায় করিবার পরামর্শ দিয়াছেন। মসজিদে সীমিতসংখ্যক মুসল্লি লইয়া জামায়াতে নামাজ আদায় করা হইতেছে। ইফতার মাহফিল না করিয়া ইফতারসামগ্রী অভাবী মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাইয়া দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হইয়াছে।

শুধু বাংলাদেশে নহে, সারা মুসলিম জাহানে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকিয়া মুসলমানগণ এখন নামাজ ও রোজা আদায় করিতেছেন। খোদ সৌদি আরব মক্কা ও মদিনায় নামাজ ও রোজা আদায়ে ১০টি নির্দেশনা জারি করিয়াছে। মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতের দেওবন্দের আলেমগণও এই সময় অধিকাংশ ইবাদত ঘরে অবস্থান করিয়া আদায়ের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করিয়াছেন। কেননা, ইসলাম একটি সহজ, সাবলীল ও স্বভাবজাত ধর্ম। এখানে কোনো বাড়াবাড়ি নাই। যাহারা করোনায় আক্রান্ত হইবেন তাহারা সুবিধা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে রোজা আদায় করিবেন। মহামারি, অসুখ-বিসুখ ও বিপদ-আপদ আল কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী আমাদের হাতের কামাই বা তিনি ইহা দ্বারা পরীক্ষা করিয়া থাকেন। তাই এই সময় আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখিয়া ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়া করোনা মোকাবিলায় আমাদের কামিয়াব হইতে হইবে।

সিয়াম সাধনার মূল কথা হইল আত্মশুদ্ধি। তাকওয়া বা খোদাভীতি ছাড়া ইহা অর্জন করা সম্ভব নহে। সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এই কথাই বলা হইয়াছে। এমনকি বুখারি শরিফের হাদিসে বলা হইয়াছে—যে ব্যক্তি রোজা রাখিয়া মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা আচরণ হইতে বিরত হইল না, তাহার ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকা আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন ছিল না। অতএব, করোনাকালেও আল্লাহ আমাদের রোজার হক আদায়ের তওফিক দান করুন। আমাদের রোজা, নামাজ, তারাবি, সেহরি, ইফতার ইত্যাদি আমল কবুল করুন। রোজা ঢালস্বরূপ। ইহা মানুষকে যাবতীয় পাপকাজ হইতে বিরত রাখে। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর এই প্রশিক্ষণের প্রভাব বাকি ১১ মাসেও থাকিবার কথা।  আমিন।