পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৮

বিপদের সময় যাহারা সংশপ্তকের মতো লড়াই করে তাহারাই সত্যিকারের বীর। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী কোভিড-১৯-এর মহাদুর্যোগের সময় সবচাইতে সাহসের সহিত তাহাদের দায়িত্ব পালন করিয়া যাইতেছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাইতে চিকিত্সকদের পরই বাংলাদেশ পুলিশ সবচাইতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করিতেছে। বলা যায়, তাহারা এক প্রকার জীবন বাজি রাখিয়াই করোনাযুদ্ধে শামিল হইয়াছে। এমনিতেই করোনা একটি নূতন ধরনের ভাইরাস, তাহার উপর আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই ব্যক্তি ও সামাজিকভাবে সচেতন নহে। এই পরিস্থিতিতে করোনা হইতে বিপুল জনঘনত্বের এই দেশটিকে রক্ষা করিতে যেই সকল নিয়ম পালন করা প্রয়োজন সেই ব্যাপারে সিংহভাগ মানুষ দায়িত্বশীল নহে। এই অসচেতন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা জাগ্রত করিতে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখিতে, কখনো কখনো পলায়নকৃত করোনা রোগীকে ধরিয়া আনিতে, করোনা আক্রান্তের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউন করিতে, ত্রাণ বিতরণসহ নানা কাজে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ অসমসাহসী ভূমিকা পালন করিয়া যাইতেছে। আর তাহাদের এই একনিষ্ঠ দায়িত্ব পালনের কারণেই গত শুক্রবার অবধি পুলিশ বাহিনীর ২৩৪ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হইয়াছেন। এই আক্রান্তের মধ্যে নারী পুলিশ এবং পুলিশে কাজ করা সাধারণ কর্মচারীও রহিয়াছেন। সারা দেশে ৬৫২ জন পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হইয়াছে বলিয়া পুলিশ সদর দপ্তর নিশ্চিত করিয়াছে।

প্রকৃত অর্থে করোনার মতো প্রচণ্ড ছোঁয়াচে ভাইরাসকে মোকাবিলা করিতে মাঠে নামিতে হইলে বিশেষ সুরক্ষা লইতেই হয়। এমনকি বিশেষ সুরক্ষা লইবার পরও কোনো না কোনো ফাঁকফোকর দিয়া করোনা প্রবেশ করিতে পারে। সংক্রমিত করিতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশ পুলিশের যেই ২ লক্ষাধিক সদস্যের বড়ো একটি অংশ সরাসরি মাঠে নামিয়া করোনার বিস্তাররোধে কাজ করিতেছেন, তাহাদের যথাসম্ভব সুরক্ষাব্যবস্থার মধ্যেও করোনা হানা দিতে পারে। একইভাবে চিকিত্সকরাও সকল প্রকার সুরক্ষা লইবার পরও অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হইতেছেন। আর যাহাদের নিকট যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রী নাই, তাহাদের বিপদ যে অধিক তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। তাহা সত্ত্বেও আমাদের দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষার জন্য কখনোই অপেক্ষা করিয়া বসিয়া থাকেন নাই। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য তাহারা সদা তত্পর রহিয়াছেন, সম্ভবপর সকল কার্য সম্পাদন করিতেছেন। এই ক্ষেত্রে এই অকুতোভয় বাহিনীকে ধন্যবাদ দিতেই হয়।

যেহেতু বিশ্ব জুড়েই সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা রহিয়াছে, সুতরাং এই কঠিন সময়ের বাস্তবতা আমাদের অনুধাবন করিতে হইবে। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য নিশ্চয়ই যথাযথ চিকিত্সাব্যবস্থা গ্রহণ করা হইতেছে। তাহাদের পুলিশ হাসপাতালে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হইয়াছে। সেইখানে করোনার জন্য আলাদা ইউনিটও খোলা হইয়াছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশের জনগণ মাস্ক পরিধান করিবার ব্যাপারে সচেতন হইয়াছে, করোনার ক্ষয়ক্ষতি অনুধাবন করিয়া বহুলাংশে ঘরমুখী হইয়াছে। এখন করোনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যদি গণজমায়েত পরিহার করে, অকারণে চলাফেরা না করে, নিয়ম মানিয়া চলে, তাহা হইলে সবচাইতে বেশি উপকৃত হইবে আমাদের পুলিশ বাহিনী। তাহাদের এত আত্মোত্সর্গের পরও আমরা কি তাহাদের এইটুকু সহযোগিতা করিতে পারি না?