রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার কয়েকটি গলি নিয়ে উত্তর-পশ্চিম সোসাইটি গঠিত। এই দুর্যোগকালে অন্যদের মতো তারাও উদ্যোগী হয়ে কিছু লোককে ত্রাণ দিয়েছে। মাত্র ৫০ জন মানুষকে তারা যে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। ছোট্ট পরিসরে, সীমিত সামর্থ্যে গোছালোভাবে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ত্রাণের সাহায্যে চার কি পাঁচ জনের একটি পরিবারের যেন ন্যূনতম ১৫ দিন অর্থাত্ অর্ধমাস চলে। সোসাইটির পক্ষ থেকে প্রকৃত দুস্থদের খুঁজে বের করে (যারা কষ্টে থেকেও নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন) তাদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি উদাহরণ মাত্র।
অন্যদিকে, ত্রাণের বস্তার সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে বিশৃঙ্খলাও বাড়ছে। সহযোগিতার চেয়ে প্রচারের কাজটা এক্ষেত্রে বেশি হচ্ছে। সংখ্যা বাড়ানোর মধ্য দিয়ে সামাজিক দূরত্ব ভাঙার চিত্রই বেশি ফুটে উঠছে। এতে নামমাত্র দুস্থরা ত্রাণ পাচ্ছে। বরং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালীর লোকজনরাই বেশি বেশি করে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যে কারণে প্রকৃত দুস্থরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে বাধ্য হয়েছে। ত্রাণের ট্রাক লুট করেছে।
প্রথমদিকে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া শুরু হলেও এখন আর তা চোখে পড়ছে না। সময়ে সব যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে। ত্রাণ পেতে সবাইকে নিজ নিজ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হচ্ছে। রাজধানীতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মসজিদ ও ক্লাবের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে সেখানেও হৈচৈ অবস্থা! প্রভাবশালী, মুখচেনাদের প্রাধান্য।
এই মুহূর্তে ঢাকায় অবস্থানকারীদের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর একটি বড়ো অংশের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রামের ঠিকানায় করা। সাহায্য পেতে তাদের এখন নাকাল হতে হচ্ছে। স্ব স্ব ওয়ার্ডে স্থানীয় ভোটার হওয়া ও পরিচয়পত্র ছাড়া সহযোগিতা মিলছে না। রাজধানীতে থানা-পুলিশের পক্ষ থেকেও ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে অনেকেই ত্রাণ পাচ্ছে। আবার জটিলতায় কারো কারো ভাগ্যে তা জুটছেও না। কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ সদস্যরা নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছেন। এটি একটি ভালো উদ্যোগ।
উন্নত দেশগুলোতে লকডাউনের সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়। সহযোগিতা নিয়ে কোথাও কোথাও ঝামেলাও পোহাতে হয় কাউকে। এটা দুর্যোগের একটি স্বাভাবিক চিত্র। বাংলাদেশে সরকারি ত্রাণ না পাওয়া কিংবা পাওয়ার আশায় দুস্থরা ঘর থেকে পথে নামছে। এতে বিশৃঙ্খল অবস্থার তৈরি হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় ও তৃণমূল পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিতে এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার তৈরি হয়। শৃঙ্খলার স্বার্থে এ অবস্থার আশু সমাধান প্রয়োজন।
ঢাকা
