অদৃশ্য এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে দেশগুলো। বাংলাদেশও এর বাইরে নেই। এ দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। এদেশে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ খুবই দুষ্কর। তাই ঘরে থাকলেই সেটা শুধু সম্ভব।
বড়ো বড়ো দেশ, যেখানে উন্নত স্বাস্থ্যচিকিত্সা রয়েছে। সে দেশগুলোর মানুষই ঘরে থাকছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছেন। ঐ দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে কি ঠিকমতো মানা হচ্ছে নির্দেশ? কেউ কি বুঝতে পারছে না পরিস্থিতি কতোটা ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে? আসলে আমরা কি কম বুঝি! আমাদের ঘরে বেঁধে রাখা দায়। আমরা আমাদের বীরপুরুষ ভাবি। আমরা মনে করি আমাদের আবার কী হবে! আমরা তো কোনো রোগীর কাছে যাচ্ছি না। এগুলো ভেবেই দেদারসে ঘুরে বেড়াচ্ছি নিজের মতো হাট-বাজার কিংবা গ্রামগঞ্জে। সকলের সংস্পর্শে আসছি। চায়ের দোকানে চা খাচ্ছি, আড্ডা দিচ্ছি। একবারও ভাবছি না এ অদৃশ্য প্রাণঘাতী ভাইরাস আমাদের চারপাশেই মৃত্যুর বরণডালা সাজিয়ে বসে আছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য, চিকিত্সক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিওকর্মীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও এলাকার সচেতন মানুষ কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের সচেতন করছেন। আমাদের ঘরে রেখে তাঁরা সেবা দিচ্ছেন। আমরা বুঝছি না।
কিছু কিছু মানুষ আছেন, সেনাবাহিনী বা প্রশাসনের গাড়ি দেখার জন্য দৌড়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। আর কিছু মানুষ আছেন যারা বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘটাচ্ছেন সমাগম। অহেতুক এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করছেন। বাদ নেই নারীরাও, তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে জমিয়ে তুলছেন গল্পের আসর। নারী-পুরুষ উভয়ে খেলছেন চোর-পুলিশের খেলা। প্রশাসন, সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ সদস্যদের দেখলেই লুকিয়ে যাচ্ছেন। ধরা পড়লে দেখাচ্ছেন বিভিন্ন অজুহাত।
এদের বোঝাবে কে? কেন এরা বাড়ির বাইরে? কেন মানছেন না নির্দেশনা? তাদের কি বিবেক-বুদ্ধি নাই? এদেরকে বুঝিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। একটা প্রবাদবাক্য আছে না, ‘গণ্ডারের চামড়ায় কথা লাগে না’। তাদের চামড়াও কি গণ্ডারের মতোই?
আসুন সচেতন হই। নিজের জীবনের দাম না দিলেও মানুষের জীবনের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করি। আমরা তো জানি এ রোগ সংক্রমিত হয় সংস্পর্শের মাধ্যমে। তবে কেন নিজেরসহ পরিবার ও প্রতিবেশীদের মৃত্যু ডেকে আনছি? যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তাঁদের সহযোগিতা করি। তাঁদের কোনোকিছুর বিনিময়ে সহযোগিতা করতে হবে না। ঘরে থাকুন, তাহলেই হবে। আমরা ঘরে থাকলেই আমরা নিরাপদ থাকব, আমাদের পরিবার নিরাপদ থাকবে, আমাদের চারিপাশ নিরাপদ থাকবে, আমাদের দেশ নিরাপদ থাকবে।
দিনাজপুর
