ইসরাইলকে জাতিসংঘ ও ইইউর হুঁশিয়ারি

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩০

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর মারাত্মক আঘাত। আর ইইউ বলছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করবে না তারা।

গত সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজ সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। যৌথ সরকার গঠনের জন্য স্বাক্ষরিত চুক্তিতে দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আগামী ১ জুলাই থেকে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসরাইল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব একান্তে ইসরাইলি সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক জাতিসংঘ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের ইসরাইলি পরিকল্পনা একটি চলমান হুমকি। এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এই পদক্ষেপ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর মারাত্মক আঘাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে নতুন করে আলোচনা শুরুর পথ রুদ্ধ হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইইউর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল জানিয়েছেন, তাদের ২৭ জাতির জোট ইসরাইলি পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেবে না। নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এর প্রভাব পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরের দখল নেয় ইসরাইল। তারপর থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখ ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করেছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড়ো অংশ মনে করে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি অবৈধ আর ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের পথে প্রধান বাধা।