করোনার চিকিত্সায় দেহে জীবাণুনাশক ঢুকিয়ে দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে বুদ্ধিমান ও মেধাবী পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। যে কারণে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিত্সায় নতুন নতুন প্রস্তাব নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি। শুরুতে তিনি ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে দাবি করেছিলেন। এবার তিনি আক্রান্তদের শরীরে ইঞ্জেকশন দিয়ে জীবাণুনাশক ঢুকিয়ে চিকিত্সা করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আক্রান্তের শরীরে অতি-বেগুনি আলোকরশ্মির বা (ইউভি) তাপ দিয়ে করোনা ভাইরাস মেরে ফেলা যায় কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে বলেছেন। ট্রাম্পের এই পরামর্শে রীতিমতো হতবাক দেশটির চিকিত্সক ও গবেষকরা। এই পরামর্শ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জীবাণুনাশক উত্পাদক কোম্পানি এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে করোনা টাস্কফোর্সের ব্রিফিংয়ে সরকারি এক জন কর্মকর্তা একটি গবেষণার ফলাফল হাজির করেন। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে- সূর্যের আলো ও তাপে করোনা ভাইরাস দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। মুখের লালা এবং শ্বাসযন্ত্রের ফ্লইডের মধ্যে ব্লিচ বা জীবাণুনাশক দিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই ভাইরাস মেরে ফেলা সম্ভব। আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (অধিকতর শক্তিশালী জীবাণুনাশক) দিয়ে আরো দ্রুত ভাইরাস ধ্বংস করা যায়। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অস্থায়ী প্রধান উইলিয়াম ব্রান্টের মুখ থেকে এসব কথা শোনার পরপরই অতি উত্সাহী ট্রাম্প নতুন পরামর্শ দেন।

হোয়াইট হাউসের করোনা ভাইরাস বিষয়ক রেসপন্স টিমের সমন্বয়কারী ড. ডেবরা ব্রিক্সের দিকে তাকিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমরা যদি দেহকে আলট্রা-ভায়োলেট বা অন্য কোনো শক্তিশালী রশ্মির নিচে রাখি—তাহলে কি হয় আপনারা তা পরীক্ষা করে দেখুন। এ সময় তিনি আক্রান্তের শরীরে জীবাণুনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমরা কি এমন কিছু করতে পারি যাতে দেহের মধ্যে জীবাণুনাশক ঢুকিয়ে দেহকে একেবারে জীবাণুমুক্ত করে ফেলা সম্ভব হয়। সেটা পরীক্ষা করে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর নিজের মাথার দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, আমি চিকিত্সক নই। কিন্তু আমার যথেষ্ট ভালো...আপনারা বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি। ড. ব্রিক্স এ সময় বলেন, জ্বর হলে, শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করতে শুরু করে। কিন্তু বাইরে থেকে তাপ এবং আলো প্রয়োগ করে চিকিত্সার কথা আমি জানি না। ট্রাম্প তখন বলেন, এটা পরীক্ষা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের এই পরামর্শের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চিকিত্সকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরামর্শ শুনলে মানুষের জীবন চলে যেতে পারে। পালমোনোলজিস্ট ড. ভিন গুপ্তা বিবিসিকে বলেন, শরীরের ভেতর জীবাণুনাশক ঢুকিয়ে দেওয়ার ধারণা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিপজ্জনক। মানুষ এই পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার চিকিত্সক কাশিফ মাহমুদ বলেন, কোভিড-১৯ চিকিত্সায় আমি কখনোই রোগীদের ফুসফুসে জীবাণুনাশকের ইঞ্জেকশন দিতে বলব না, অথবা ইউভি রশ্মির নিচে তাকে রেখে দিতে বলব না। ট্রাম্পের কাছ থেকে মেডিক্যাল পরামর্শ নেবেন না। জুকারবার্গ সান ফ্রান্সিসকো জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক জন বামস বলেন, ব্লিচ দিয়ে তৈরি জীবাণুনাশক শুকলেও শরীরে সমস্যা তৈরি হতে পারে। জীবাণুনাশক উত্পাদনকারী রেকিট বেনকিজার কোম্পানি বলেছে, কোনো অবস্থাতেই মানুষের শরীরে এসব জীবাণুনাশক ঢুকান যাবে না।

ট্রাম্প প্রথমে করোনার চিকিত্সায় হাইডক্সিক্লোরোকুইন ওষুধের কথা বলেছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের এক হাসপাতালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ওষুধ দিয়ে যাদের করোনা ভাইরাসের চিকিত্সা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি।