যমুনার দুর্গম চরে একটি হত্যাকাণ্ডের জেরে নিরীহ কৃষকদের অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে কয়েকশ গরু, ছাগল ও ধান মরিচসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। বাড়িঘর ভেঙে লুট করা হয়েছে মূল্যবান সম্পদও। এই হামলায় প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে। ঘটনাটি ঘটেছে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল শনপচায়। এই চরটি মাদারগঞ্জ সীমানায় বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুর্ণিবাড়ি ইউনিয়নের শনপচা (ডাকাতমারা চর) হিসেবে পরিচিত। এই চরে বসাবাসরত মানুষ অধিকাংশ মাদারগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তারা নদীভাঙনের শিকার হয়ে এই চরে কয়েক যুগ আগে থেকে বসবাস করে আসছে।
হামলার শিকার শনপচা গ্রামের কৃষক ও ড্রেজার ব্যবসায়ী আহসান আলী, ঐ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল মণ্ডল ও আ. সাত্তার ব্যাপারী জানান, একটি সালিশি বৈঠক নিয়ে একটি সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। এর জের ধরে শনাপাচা চরের আশরাফুল, এনামুল এবং ও পার্শ্ববর্তী নান্দািচরের লাঠিয়াল খোকা ফকিরের নেতৃত্বে কয়েকশ লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঐ ইউনয়নের চেয়ারম্যান আজহার মণ্ডলের লোকজনকে অকারণে দায়ী করে অতর্কিতে হামলা চালায়। এবং লোকজন ভয়ে পালিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাদের প্রায় শতাধিক বাড়ি থেকে গরু বাছুর, ছাগল, ধান চাল, মরিচ,লুট করে নিয়ে যায়। বৃহম্পতিবার সকালে ঐ চরে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকদের বাড়িঘর শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে, প্রতিটি বাড়িতে হামলার চিহ্ন দেখা যায়।
এ ব্যাপারে নান্দিনা চরের অভিযুক্ত খোকা ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আাামীন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০টি গরু উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
