কর্মহীনদের তালিকা তৈরিতে কাউন্সিলরদের গড়িমসি!

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৮

রাজধানীর কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের তালিকা তৈরি করতে রীতিমতো গড়িমসি করছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা। সরকার দ্রুত গতিতে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিলেও ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র পাঁচটির শ্রমজীবী মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা গেছে। অথচ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে টানা প্রায় এক মাস ছুটির কারণে রাজধানীর কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। থমকে গেছে তাদের জীবনযাত্রা। সবকিছু বন্ধ থাকায় তারা না পারছে কোনো কাজ করতে, না পাচ্ছে সরকারি কোনো খাদ্যসহায়তা। আয় না থাকায় নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

উল্লেখ্য, করোনা সংকটের কারণে গত ৫ এপ্রিল সরকার কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির ‘বিশেষ ওএমএস’ চালু করে। কিন্তু এতে দেখা যায়, একই মানুষ বারবার খাদ্যসহায়তা পাচ্ছে। অথচ প্রকৃত কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ সরকারের কোনো ধরনের খাদ্যসহায়তা পাচ্ছে না। এছাড়া সারাদেশে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাল চুরি ও আত্মসাতের মহোত্সব শুরু হয়। সরকার বাধ্য হয়ে এই ‘বিশেষ ওএমএস’ স্থগিত ঘোষণা করে।

এদিকে কর্মসূচি স্থগিত করার পর খাদ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, যেসব অতিদরিদ্র, অসহায়, কর্মহীন দুস্থ মানুষ যারা সরকারের কোনো ধরনের খাদ্যসহায়তা পায় না শুধু তাদেরকেই এই ১০ টাকা কেজি দরের ‘বিশেষ ওএমএস’ দেওয়া হবে। এজন্য রাজধানীতে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই সিটি করপোরেশনকে। গত ৫ এপ্রিল এই দায়িত্ব দেওয়া হলেও গত ২০দিনে মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডে কর্মহীন মানুষের তালিকা তৈরি করা গেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই সিটি করপোরেশনের কমিশনারদের বারবার তাগাদা দিয়েই দ্রততম সময়ের মধ্যে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের তালিকা তৈরি করা যায়নি। তারা যে তালিকা দেয়, তাতে দেখা যায়, তালিকাভুক্তরা সরকারের কোনো না কোনো খাদ্যসহায়তা পায়। আবার কর্মহীন নয়, এমন মানুষদেরও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে অনেক যাচাই-বাছাই করে মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডের কর্মহীন মানুষের তালিকা চূড়ান্ত করা গেছে। যারা সরকারের কোনো ধরনের খাদ্যসহায়তা পায় না।

এ প্রসঙ্গে চিফ কন্ট্রোলার অব ঢাকা রেশনিং উত্পল কুমার সাহা গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২ নম্বর ওয়ার্ড ও উত্তর সিটির ৩৭, ৩৮, ৪০ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের তালিকা পেয়েছি। এই পাঁচটি ওয়ার্ডের তালিকা দিয়েই আমরা আগামীকাল রবিবার থেকে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির ‘বিশেষ ওএমএস’ চালু করব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রবিবার উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৮ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষকে এই চাল দেওয়া হবে।