হালদা নদীতে মা-মাছেরা ডিম ছাড়বে। আর সেই আশায় হালদার দুই পাড়ে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নির্ঘুম প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন মাছের ডিম সংগ্রহকারী প্রায় দেড় হাজার জেলে। দেশের কার্পজাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজননস্থল চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মা-মাছেদের ডিম ছাড়ার জন্য অমাবস্যার দ্বিতীয় জো-টিও অতিবাহিত হতে চলেছে। মাছেরা ডিম ছাড়তে প্রস্তুত। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রয়োজন আকাশ ছাপিয়ে মুষলধারায় বজ্রবৃষ্টি এবং হালদা নদীর বুক জুড়ে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোত। শুক্রবার রাতেও ঝড়বৃষ্টি হলে মা-মাছেরা ডিম ছাড়তে পারে বলে আশা করছেন ডিম সংগ্রকারীরা।
হালদা গবেষক বিশিষ্ট প্রাণিবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, অমাবস্যার দ্বিতীয় জো-টি অতিবাহিত হয়ে গেলে ডিম সংগ্রহকারীরা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণিমার প্রথম জো-তে আবারও এভাবে অপেক্ষা করবেন। গত এক বছর হালদা নদীর মাছেরা হাটহাজারি উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার যেরকম স্বেচ্ছাসেবামূলক পরিচর্যা পেয়েছে, আশা করা হচ্ছে এখানে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ডিম পাওয়া যাবে। জো-এর জন্য নির্ধারিত তারিখ অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার দু-এক দিন পরেও অনুকূল ঝড়বৃষ্টিতে মা-মাছেরা ডিম ছাড়তে পারে। তিনি জানান, এ বছর হালদা নদীতে মা মাছেদের ডিম ছাড়ার মৌসুম হিসেবে প্রথম অমাবস্যার জো-টি গেছে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল। দ্বিতীয় জো-এর সময় নির্ধারিত ছিল ১৮ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল। হাটহাজারি উপজেলা প্রশাসনের সার্বক্ষণিক সহায়তায় আইডিএফ এবং পিকেএসএফ নামের দুটি সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা হালদা নদী ও মা-মাছেদের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক পাহারা দিয়েছে। তাই এ বছর ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করা যায়।
ড. কিবরিয়া জানান, গত ছয় বছরের মধ্যে ২০১৮ সালেই হালদা নদীতে রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল রুই-কাতল মা-মাছেরা। সে বছর সংগ্রহকৃত ডিমের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬৮৬ কেজি। এছাড়া ২০১৯ সালে সংগৃহীত হয়েছিল ৭ হাজার কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি।
হাটহাজারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, জো চলছে, তাই ডিম সংগ্রহকারীরা এবং ডিম ফোটানোর সরকারি-বেসরকারি হ্যাচারিগুলো প্রস্তুত হয়ে আছে। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে ডিম সংগ্রহের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া যারা ঢাকা থেকে ডিম সংগ্রহে আসবেন, তাদের গণরিবহনের ব্যবস্থা দিয়েও সহায়তা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
