ধর্ষণের অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে মারধর, ক্ষোভে কিশোরের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪০

পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সোনারবান বাঁশবাড়ী এলাকায় গ্রাম্য সালিশে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ তুলে খয়রুল ইসলাম (১৭) নামে এক দিনমজুর কিশোরকে মারধর করা হয়েছে। সালিশ শেষ হলেই বাড়ি ফিরে ঐ কিশোর ক্ষোভ ও অপমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় মসজিদের সামনে এই সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই সে আত্মহত্যা করে। পুলিশ শুক্রবার দুপুরে ঐ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঐ রাতে সোনারবান বাঁশবাড়ী মসজিদের সামনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে খয়রুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ধরে এনে সালিশ বসায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাসহ প্রভাবশালীরা। সালিশে ঐ শিশুর মা অভিযোগ করেন, গত ২০ এপ্রিল দুপুরে তার ছয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে খয়রুল। সালিশের শুরুতেই তাকে এক দফা মারধর করা হয়। ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে খয়রুল।  এ সময় ঐ কিশোরের বাবা আব্দুর রশিদ সালিশে উপস্থিত হলে সবাই গালিগালাজ করতে থাকে। অপমান সইতে না পেরে ঐ কিশোরের বাবা নিজেই তার ছেলেকে জুতাপেটা করেন। পরে তিনি সালিশে উপস্থিত বিচারকদের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে শরিয়তি বিচারে তাকে  বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। পরে বাড়ি গিয়ে খয়রুল তার ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

খয়রুলের বাবা আব্দুর রশিদ জানান, ‘আমি বিষয়টি তাদের তদন্ত করে দেখার অনুরোধ করি, কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। কোনো কিছু না করেও এমন অপমান সইতে না পেরে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

খয়রুলের প্রতিবেশী আব্দুল জলিল জানান, সে যদি ধর্ষণ করেই থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তারা মামলা করুক। যদি প্রমাণিত হয় আদালত তাকে শাস্তি দেবে। কিন্তু তারা তা না করে নিজেরাই শাস্তি দিয়েছে।

তবে সালিশকারী আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা কদম আলী মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  ‘আমরা তার বাবাকে বলেছি তার ছেলের বিচার যেন সে নিজেই করে। ওর বাবা জুতা দিয়ে কয়েকটা বাড়ি দিয়েছে। পরে আমি চলে যাই। এরপর কী হয়েছে তা জানি না।’

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু আককাছ আহমেদ জানান, ঐ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।