কুমিল্লায় বাজারগুলোতে কমছে না জনসমাগম

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৬

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণার পর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও সাধারণ মানুষ যেন তা আমলেই নিচ্ছেন না। জেলার বিভিন্ন উপজেলা সদর, গ্রামাঞ্চলসহ নগরীর অলিগলি, পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন হাটবাজারে এখনো বিপজ্জনক জনসমাগম কমছে না। এছাড়া অভাবী মানুষের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অধিকাংশ স্থানে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এতে করোনা তৃণমূলে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়বে—এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, অযথা ঘোরাঘুরি বন্ধ এবং জনসমাগম রোধে প্রশাসন তত্পর রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণার পর হতে জনগণকে সরকারি নানা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে তত্পর হয়ে ওঠে। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ যেন তা আমলেই নিতে চাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর ইপিজেড পশ্চিম গেইটের এয়াছিন মার্কেট, রাজগঞ্জ, টমছমব্রিজ, চকবাজার, রানীরবাজার, আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর বাজার, বুড়িচংয়ের নিমসার বাজারসহ দোকানপাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। লোকজন বাজারে ভিড় জমাচ্ছেন। এদিকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবং তরুণ-যুবকরা নানা অজুহাতে পাড়া-মহল্লায় অযথা ঘোরাঘুরি ও আড্ডা করছে। এছাড়া কেউ কেউ মোটরসাইকেল, জরুরি সেবার আওতাভুক্ত গাড়িতে ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তত্পর থাকলেও লকডাউন অমান্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছেই। সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘বাজারগুলোয় জনসমাগম কমছে না। তৃণমূলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহার ও সরকারের নির্দেশনা তেমন মানা হচ্ছে না। এতে করোনা সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।’ কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘করোনার ছোবলে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে। এর পরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। অন্য জেলা হতে আগমন ও এ জেলা হতে প্রস্থান বন্ধে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।’ কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলার মোট ৪৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে বড়ো পরিসরের মাঠে বাজার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দিনে-রাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন।’