খেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছেন ঝিনাইদহের চাষিরা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ২২:৫০

করোনার কারণে বেচাকেনা বন্ধ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

করোনার কারণে ঝিনাইদহ জেলায় ফুল বেচাকেনা একেবারে বন্ধ রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ফুলচাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। খরচ করে খেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের পর ঝিনাইদহ জেলা ফুল উত্পাদনকারী জেলা। এখন সারা বছর ধরে ফুল চাষ হয়। কিন্তু করোনার কারণে গত ৮ মার্চ থেকে ফুল বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের ফুলচাষি টিপু সুলতান জানান, তিনি ১৬ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। আশা ছিল স্বাধীনতা দিবস ও বাংলা নববর্ষে ফুলের ব্যাপক চাহিদা হবে। ফুল বিক্রি করে চাষিরা ভালো লাভ পাবেন।  তিনি জানান, শ্রমিক দিয়ে খরচ করে খেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে। অপর দিকে খেত পরিচর্যায়ও ব্যয় হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আড়াই বিঘার চন্দ্র মল্লিকা খেত নষ্ট করেছেন। এতে তার ২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। করোনার কারণে ফুল কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার এ পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। শাহপুর ঘিঘাটি গ্রামের ফুলচাষি খলিলুর রহমান জানান, তিনি আট বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন। সবে খেত থেকে ফুল তোলা শুরু করেছিলেন। এরপর খেত থেকে ফুল তুলে ফেলে দিতে হচ্ছে।

এদিকে ফুল চাষ, খেত থেকে ফুল তোলা, ঝোপা তৈরি ও সাজানোসহ নানা কাজে এই জেলার কয়েক হাজার শ্রমিক জড়িত। তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে ফুলের হাটগুলোতে কাজ করে সংসার চলত অনেক শ্রমিকের। তারাও এখন বেকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, লাভ বেশি পাওয়ায় চাষিরা ফুল চাষে ঝুঁকছে। প্রতি বছরই চাষ বাড়ছে। ফুল সংরক্ষণ করে ঘরে রাখা যায় না। প্রতিদিন তুলে বিক্রি করতে হয়।