জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচনের আগের দিন অর্থাত্ ২৯ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনের পরের দিন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রোহিঙ্গারা যাতে কোনো অজুহাতে ক্যাম্পের বাইরে যেতে বা অবস্থান করতে না পারে সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমারে সেনা নির্যাতনের কারণে উখিয়ার পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়নের ২৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় গ্রহণ করেছে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন রোহিঙ্গাদের অনেকেই ইতিমধ্যে বিভিন্ন কৌশলে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে। যা ভোট কেন্দ্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে প্রশাসন রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে আসা-যাওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ক্যাম্প প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল খায়ের জানান, রোহিঙ্গারা কালো টাকার বিনিময়ে ভোট কেন্দ্রে কারো পক্ষাবলম্বন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বানচাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে পারে। তাই পুলিশ রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ধরপাকড় অব্যাহত রাখা হবে। এসময়ে ক্যাম্পের ভিতরের কোনো রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পের বাইরে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইনে মামলা রুজু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ জালালউদ্দিন জানান, রোহিঙ্গারা যাতে ভোট চলাকালীন সময়ে ক্যাম্পের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে তাদের উপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো অজুহাত এমনকি মুমূর্ষু রোগী পর্যন্ত ক্যাম্পের বাইরে যেতে না দেওয়ার দিক নির্দেশনাটি রোহিঙ্গাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বা নির্বাচনের আগের দিন থেকে নির্বাচনের পরেরদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গারা যেন কোনো অবস্থাতেই ক্যাম্পের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জদের সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ক্যাম্প এলাকায় টহল অব্যাহত রেখেছে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম জানান, জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নজরদারি রাখার জন্য ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত এনজিওগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
