ফুল

দুর্লভ ফুল নাগলিঙ্গম

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৫

লেখা ও ছবি : নূর আলম গন্ধী

 

নাগলিঙ্গম সুউচ্চ ও চিরসবুজ বৃক্ষ। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চল। নাগলিঙ্গম নামটি সংস্কৃত  থেকে নেওয়া, এর কোনো বাংলা নাম নেই। নাগলিঙ্গম আবিস্কৃত হয় প্রায় তিন হাজার বছর আগে আমাজানের জঙ্গলে। ১৭৫৫ সালে ফ্রান্সের উদ্ভিদবিজ্ঞানী জে এফ আউবেল্ট এর নামকরণ করেন Cannon ball। এই গাছ উচ্চতায় প্রায় ৮০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কাণ্ড বেশ মোটা হয়, গাছের কাঠ খুবই শক্ত মজবুত, রং লালচে বাদামি। গাছে শাখা-প্রশাখা কম এবং গাছ সোজা ওপরের দিকে বাড়তে থাকে। পাতা গাঢ় সবুজ ও গুচ্ছবদ্ধ, লম্বায় সাধারণত ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি এবং চওড়ায় ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। মূলত গ্রীষ্মকাল এর পাতা ঝরার সময়। তবে বছরে বেশ কয়েকবার পাতা ঝরায় এবং নতুন পাতা গজায়।

নাগলিঙ্গম গাছে প্রায় সারা বছর ফুল ফোটে। তবে ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম গ্রীষ্ম। অন্য সময়ে ফুল ফোটে কম। এই ফুল শাখা-প্রশাখায় ফোটে না, কাণ্ড ফুঁড়ে মঞ্জরি বের হয় এবং ঐ মঞ্জরিতে ফুল ধরে। তাই তো গাছের প্রায় গোড়া থেকে ওপর ভাগের কাণ্ড পর্যন্ত ফুল ফুটতে দেখা যায়। একই মঞ্জরিতে একাধিক ফুল ফোটে। ফুলের সৌন্দর্য নয়নাভিরাম। রং উজ্জ্বল গোলাপি, সাদা, লাল ও হলুদের মিশ্রণ। ফুটন্ত ফুলের পরাগকেশর নাগের ফণার মতো বাঁকানো থাকে। এ কারণে গাছটির নাম নাগলিঙ্গম হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরাগদণ্ড সাদা থেকে গোলাপি ও মাংসল। এর শেষ অংশে অসংখ্য পুংকেশর থাকে। ফুলের পাপড়ি ছয়টি, যা বেশ পুরু। এর মিষ্টি সুবাস দূর থেকে পাওয়া যায়। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল গোলাকৃতির, মাংসল ও বেলের মতো বড়ো, রং বাদামি। ফল কামানের গোলার মতো বলে এই উদ্ভিদকে ইংরেজিতে Cannon ball tree বলে। প্রতি ফলে ২০০ থেকে ৩০০ টি পর্যন্ত বীজ থাকে।

নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে ঢাকার বলধা গার্ডেন, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বাগানে, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, নটরডেম কলেজ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন, কিশোরগঞ্জ শহরের আজিমুদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠের পূর্ব প্রান্তে, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, বান্দরবান ও কক্সবাজারের কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে।

নাগলিঙ্গমের রয়েছে ভেষজ নানান গুণ। এর ফুল, বাকল ও পাতার নির্যাস অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। পেটের পীড়া দমনে সহায়ক। বাকল দিয়ে বহুমূত্র রোগের ওষুধ তৈরি হয়। পাতার রস ত্বকের সমস্যা সারাতে ও ম্যালেরিয়ায় কাজ করে। কাটা-ছেঁড়া ও ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও নাগলিঙ্গম বেশ কার্যকর।