করোনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও বাঙালির লড়াই

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৩

মোহাম্মদ নাসিম

এখন বিশ্বব্যাপী করোনার ত্রাস চলছে। জন্মভূমি বাংলাদেশ এখনো আক্রান্ত। জনজীবন ঘরে বন্দি হয়ে আছে। দেশের প্রায় সব মানুষই কর্মহীন গৃহবন্দি জীবন-যাপন করছে। তবে সব থেকে বেশি উভয় সংকটে পড়েছেন রাজনীতিবিদেরা। বিশেষত যারা প্রবীণ রাজনীতিবিদ। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতিনিয়ত তাদের প্রিয় এলাকাবাসীর কাছে যেতে পারছেন না। যাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা হতো, সুখ-দুঃখের অংশীদার হতেন, তাদের এখন বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অথবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রিয় এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হচ্ছে এবং সার্বিক সহযোগিতা করতে হচ্ছে।

এই সময়ে আমাদের সেই কারাজীবনের কথা বারবার মনে হয়, যখন কারাবন্দি থেকে বিভিন্ন সময়ে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হতো। আমরা তো একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বেশির ভাগ সময় এলাকার জনগণের সঙ্গে অবস্থান করতাম এবং জনগণের সুখ-দুঃখের সাথি হতাম। এছাড়া প্রতিনিয়ত এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করতাম। আওয়ামী লীগ একটি জনমুখী রাজনৈতিক দল। দুঃসময়ে ও দুর্যোগের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনো দিনও ঘরে বসে থাকেননি। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেমন দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তেমনি পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়েও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব স্বৈরাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, বারবার কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, কিন্তু মাঠ ছেড়ে যাননি। আজও এই করোনা ভাইরাসের মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যেও দেশব্যাপী গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিনিয়ত এরা দরিদ্র, দুস্থ ও কর্মহীন মানুষকে খাদ্য ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করছেন।

প্রায় প্রতিদিনই আমরা যার যার নিজস্ব এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সার্বিক সহযোগিতা করছি এবং ত্রাণকার্য মনিটরিং করা হচ্ছে। সরকারি ত্রাণ যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য প্রশাসন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের ওপর অব্যাহত তদারকি বজায় রাখা হচ্ছে। কোথাও কোনো বিচ্যুতি ঘটলে তত্ক্ষণাত্ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশনা প্রতিপালন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ছাড়াও ১৪ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্তরিকভাবে এই ত্রাণকার্যে অংশগ্রহণ করছে। মানুষ মানুষের জন্য—এই কথা দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

সমাজে কিছু দুষ্টগ্রহ দুর্বৃত্ত থাকে, যারা এই দুর্বিপাকের সময় অসদুপায় অবলম্বন করে থাকে। এরা যুগ যুগ ধরে অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে, কিন্তু তার পরেও এই বিশাল সহযোগিতার কর্মকাণ্ডকে ছোটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একজন সত্যিকারের রাজনীতিবিদের সব সময়ের জন্য জনগণের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে দায়িত্ব ও কর্তব্য। এদেশে কিছু সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনৈতিক দলে ভিড়ে, যাদের দুঃসময়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাসে এরকম কিছু সুবিধাবাদী আগেও ছিল, এখনো আছে। এদের চেহারা মানুষ জানে এবং চেনে। এদের নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা অতীতে অনেক দুঃসময় পারি দিয়েছি, এবারও ইনশআল্লাহ এই দুঃসময় অতিক্রম করব।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী এই পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটি থেকে ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তৃণমূল পর্যায়ে খাদ্য ও চিকিত্সাসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

আজকে চিকিত্সক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীগণ, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে সাহস ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে করোনা প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে, তা অবশ্যই ব্যাপক প্রশংসার দাবি রাখে। সাংবাদিকেরাও এই যুদ্ধে এগিয়ে এসেছেন।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন চিকিত্সক করোনা রোগীদের চিকিত্সা দিতে গিয়ে নিজেরা আক্রান্ত হয়েছেন এবং এক চিকিত্সক মৃত্যুবরণ করেছেন। জাতি তাদের সালাম জানায়। রাজনৈতিক কর্মীদের বাইরেও তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই যুদ্ধে এগিয়ে এসেছে। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছাত্র-যুবক-তরুণেরা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন। এটি একমাত্র বাংলাদেশ ও বাঙালির পক্ষেই সম্ভব। এখন দূর থেকে ঘরে বসে অযৌক্তিক সমালোচনা করার সময় নয়। যার যার অবস্থান থেকে এই যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য শরিক হওয়ার সময়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা অতীতে সব দুঃসময় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবারও সামনে থেকে করোনাবিরোধী যুদ্ধে যোগ্য সেনাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জয়ী হবেই।

n লেখক :প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমন্বয়ক, কেন্দ্রীয় ১৪ দল