আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আজ রবিবার ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নানা ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট যে কোনো মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হবেন না। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট ভোটের মাঝপথে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও সব দলের প্রার্থীদের নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) দিনাজপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মাহবুবুর রহমানকে দেখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। ভোটের প্রচারের সময় ডা. মাহাবুব বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সিএমএইচ এ ভর্তি করা হয়।
আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত জেনে কেউ যেন কোনোভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সেজন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, প্রার্থী ও এজেন্টদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণাও দেয় তবুও আপনাদের বিভ্রান্ত হওয়ার কিছুই নেই। আমি সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি বিএনপি-জামায়াতের একটি চরিত্রই রয়েছে যে, নির্বাচনের মাঝপথেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া। এটা তাদের আরেকটি গেম।
দলের প্রতিনিধি এবং নির্বাচনী এজেন্টদের প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত অবস্থান করারও আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী, মহাজোটের প্রার্থী এবং এজেন্টবৃন্দ রয়েছেন তাদেরকে আমি বলতে চাই নির্বাচনের শেষ অবদি আপনারা ভোট কেন্দ্রে থাকবেন এবং রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের স্বাক্ষর করা ভোটের ফলাফল নিয়েই বাড়িতে ফিরবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ তিনি বলেন, যদি আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে পারি, আমি আপনাদের এতটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি স্থানীয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে পারব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাইব নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হোক। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস জনগণ আমাদের ভোট দিলে আমরা ক্ষমতায় থাকব, না চাইলে নয়, আমি এটা জনগণের ওপরই ছেড়ে দিলাম।’
শেখ হাসিনা এ সময় ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা এবং ৪৫০ জনের অধিক নেতাকর্মীকে সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে আহত করার কঠোর সমালোচনা করেন। নির্বাচনের আগে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গোপন হামলা চালাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা একদিকে বিদেশে আমাদের নামে নালিশ করছে, অন্যদিকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা করছে।’
দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি-জামায়াত আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। কিন্তু আমাদের দলের সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কেননা আমরা জানি জনগণ আমাদেরকেই ভোট দেবে। শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কেউ যেন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে এবং আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটের প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আমি জানি যে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ভোট দেবে। মানুষের ভেতরের যে আকাঙ্ক্ষা সেটা আমরা নিজেরাই বুঝতে পারছি।
‘নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ তৈরি হয়নি’ মর্মে বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘লেভেল করা মানে তাদের এমন একটা অবস্থা করে দেওয়া হোক, অতীতে তাদের যেটা অভ্যাস ছিল একেবারে জিতিয়ে দিতে হবে। ফলে এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। কিন্তু প্রতিযোগিতা করে যে জিততে হবে এটা তাদের মধ্যে নেই।’ বিএনপির বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের সমস্যা তারাই সৃষ্টি করেছে। একেকটা নির্বাচনী এলাকায় চারজন/পাঁচজন করে তারা মনোনয়ন দেয়। এরপর সেটা ট্রেড করে, অনেকটা বলতে গেলে অকশনে দেয়। কে কত বেশি টাকা দেবে সে প্রার্থী হতে পারবে। তারা এই নির্বাচন বাণিজ্যটা করে। এই বাণিজ্য করার ফলে তাদের অনেক ভালো ভালো ক্যান্ডিডেট এবং পুরনো যারা- মানে এলাকায় যাদের ভাল যোগ্যতা আছে তারা অনেকেই নমিনেশন পায়নি। যার ফলে তারা নিজেরাই ক্ষুব্ধ হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, এই চার/পাঁচজন যে দিয়েছিল, হয়তো একজন পেয়েছে, বাকি কয়জন ক্ষেপে আছে। সংঘাতটা তাদের নিজেদের ভেতরে। কারণ যারা পায়নি তারা যে পেয়েছে তাকে এলাকায় যেতে দেবে না। তারাই মারপিট করে, তারাই তাদের অফিসে আগুন দেয়। কিন্তু তারা সবসময় দোষটা আমাদের ওপর ফেলে। মানে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে দেয়া- এটা তাদের একটা অভ্যাস। এই করে তারা পানি ঘোলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা দিনাজপুর আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তার চিকিত্সার সার্বিক খোঁজ-খবর নেন।
