অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তৈরি হচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩২

ইত্তেফাক ডেস্ক

যে কোনো ধরনের টিকা তৈরি করে তা মানবদেহে প্রয়োগের জন্য সাধারণত কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমধর্মী নজির সৃষ্টি করেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি করা করোনা ভাইরাসের টিকা। ইতিমধ্যে মানবদেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগও শুরু হয়ে গেছে কোভিড-১৯-এর এই টিকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরেই বাজারে আসতে পারে করোনা চিকিত্সার এই টিকা। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে চীনে করোনা ভাইরাসের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বের হওয়ার কিছুদিন পর জানুয়ারি মাসেই অক্সফোর্ডের কিছু বিজ্ঞানী নেমে পড়েন করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক খোঁজার কাজে।

মাত্র চার মাসেরও কম সময়ে টিকা তৈরির কাজ শেষ করে ইতিমধ্যে মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগও করা হয়েছে। যা কি না বিশ্ব রেকর্ড! বিজ্ঞানীরা এই টিকার নাম দিয়েছেন চ্যাডকস১ এনকোভ-১৯। এর আগে এত কম সময়ে কোনো টিকা তৈরির পর তা মানবদেহে প্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। এই ধরনের একটি টিকা তৈরি করতে গেলে কখনো কখনো কয়েক বছর থেকে শুরু করে যুগ পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। কিন্তু এই প্রকল্পের প্রধান ড. সারাহ গিলবার্ট জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক ব্যবহারে আশান্বিত ফলাফল মিললে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বাজারে পাওয়া যাবে এই টিকা।

করোনা ভাইরাসের এই টিকা নিয়ে সারাহ গিলবার্টও যথেষ্ট আশাবাদী। তিনি মনে করেন, এই টিকাটির কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই ভ্যাকসিনের ওপর আত্মবিশ্বাস আছে। কার্যকরী হলে শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে এই ভ্যাকসিনের আওতায় আনা যাবে।

সব থেকে বড়ো কথা—সারাহ ও তার দল অন্য সংক্রমণজনিত রোগের টিকা তৈরির পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তিনি কাজে লাগিয়েছেন করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরিতে। তিনি জানান, এই প্রযুক্তিতেই অতীতে আরো ১০টি রোগের টিকা তৈরি করা হয়েছে। হাজারো মানুষ সেই টিকা ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি। উদ্ভাবকদের ধারণা জ্বর বা একটু গা ব্যথা হতে পারে ভ্যাকসিনটি নেওয়ার পরে। কারণ সব ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই জ্বর ও গা ব্যথা স্বাভাবিক ঘটনা।

করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরির পেছনের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে যখন করোনা ভাইরাসের কথা জানতে পারি তখন এটিকে একটি সুযোগ বলে মনে হয়েছে। আমার কাছে তখন এটিকে বেশ রোমাঞ্চকর বলে মনে হয়েছে কিন্তু বুঝতে পারিনি যে এটি এত দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করি আমরা করোনা ভাইরাসের টিকা তৈরির কাজ করব। মূলত চীনা বিজ্ঞানী জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের জিনোম কোড প্রকাশের পরই তারা কাজ শুরু করে দেন। এর মাত্র তিন মাসের মাথায়ই তারা মানবদেহে প্রয়োগের মতো একটি টিকা তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন। টিকার নাম দিয়েছেন চ্যাডকস১ এনকোভ-১৯ নামের এই টিকাটি তারা তৈরি করেছেন শিম্পাঞ্জির ভাইরাস থেকে। এই ভাইরাসের মানবদেহে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। এমনকি মানবদেহে এই ভাইরাস বংশবৃদ্ধিও করতে পারবে না। বরং এটি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাকে ধ্বংস করে দেবে।

করোনা ভাইরাসের এই ভ্যাকসিনটি নিয়ে আরো বেশি আশান্বিত হওয়ার কারণ ইতিমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য সাতটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও শেষ হয়েছে। যার তিনটি যুক্তরাজ্যে অবস্থিত, দুটি ইউরোপের দেশগুলোতে এবং চীন ও ভারতে রয়েছে একটি করে প্রতিষ্ঠান। —ওয়ারড ডট কম