সিলেটে করোনা রোগী বেড়েই চলেছে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৮

সিলেটে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। শুক্রবার রাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, বৃহস্পতিবার ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের করোনা পজিটিভ এলে এই বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭-তে উন্নীত হয়েছে। এদিকে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে হবিগঞ্জের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুরে। করোনায়  সিলেটে এ পর্যন্ত ডা. মঈনসহ ৩ জনের মৃত্যু ঘটে। সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জেই মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৬ জন।

এদিকে, সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, সেবিকা ও অন্য কর্মচারীরা তাদের নিজেদের ও পরিবার পরিজনের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলেন ডিউটি শেষে বাসায় চলে যান তারা। এই অবস্থায় পরিবারের অন্যরা সংক্রমিত হয়ে যাবে কি না, সেটাও তাদের ভয়। স্বল্প আয়ের সেবিকা ও অন্য কর্মচারীরা থাকেন এক রুমের ভাড়া বাসায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শামসুদ্দিন হাসপাতালে কর্মরত অনেক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, শুধু তারা মানবিক কারণে কাজ করে যাচ্ছেন ঝুঁকি মাথায় নিয়ে।

সিলেটের বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে, করোনা রোগীর সেবায় যারা রয়েছেন তাদেরকে হোটেল বা অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। এক সপ্তাহ ডিউটি শেষে সেবায় নিয়োজিতদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন পালন করতে দেওয়া হয়। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন হয় নিজের বাসায় পরিবারের সঙ্গে। যেখানে শিশু ও বৃদ্ধরা রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যরাও আছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মনে করেন, তাদের আলাদা আবাসন ব্যবস্থার দরকার। তাদের পরিবারের সুরক্ষা সবার আগে প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা সিভিল সার্জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস থেকে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, যারা করোনা আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন তাদের জন্য আবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিআরডিটিএতে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে ২টি হোটেলের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে দ্রুতই ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে।

জানা গেছে, শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের এক স্টোর কিপার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও পরিবারের সঙ্গে নগরীর একটি আবাসিক এলাকায় থাকেন। তাদের সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৩ জন চিকিত্সক, ৩ জন নার্স, ব্রাদার ও ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে ওসমানী হাসপাতালের এক জন ইন্টার্ন চিকিত্সক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হাসপাতালের ৭৮ শিক্ষানবিশ চিকিত্সককে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বাকীদের ধাপে ধপে পরীক্ষা করা হবে।