জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসন

লড়াই হবে আ’লীগ-বিএনপির

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৮

জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারণায় আছেন-আওয়ামী লীগের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মির্জা আজম। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ও মেলান্দহ বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজু রহমান বাবুলের প্রচারণাও চোখে পড়ার মতো। এর আগে পৌর বিএনপি’র সভাপতি-মেয়র হাজী দিদার পাশার প্রার্থী হবার কথা শোনা গেলেও তিনি পুরোনো দল আ’লীগে যোগদান করেছেন। এতে মনোনয়নের পথে বিএনপি প্রার্থী বাবুল আরো একধাপ এগিয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী মির্জা আজমের নাম শোনা গেলেও নতুন করে তত্কালীন জামালপুর মহকুমা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আঃ মালেকের ছেলে এবং সদর উপজেলার প্রথম নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কৃষিবিদ রায়হানা লতার স্বামী তারেক মালেক সিজারও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মেলান্দহের পুটিয়াপাড়ায় জন্মস্থান হলেও তিনি থাকেন জামালপুর সদরে এবং জামালপুর শহর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তাই আ’লীগের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মির্জা আজমের সমর্থকরা মাঠ দখলে রেখেছেন। পাশা পরিবার থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ অ্যাড. ইসমত পাশার নামও শোনা যাচ্ছে। আবার অনেকের ধারণা আগে তিন ভাই তিন দলে (আ’লীগ-জাতীয় পার্টি-বিএনপি) থাকলেও এখন সবাই আওয়ামী লীগে। এজন্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার সম্ভাবনা নেই বলেও আলোচনা চলে।

এদিকে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মনে করছেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল সমর্থকরা। বাবুল ৯০’র গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। বিএনপিতে যোগদানের পর বিগত নির্বাচনে বাবুল একবার স্বতন্ত্র, একবার বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ প্রার্থী মির্জা আজমের কাছে হেরে যান।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক আহবায়ক গোলাম রব্বানী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার দৌলতুজ্জামান আনছারীও মনোনয়ন যুদ্ধে অটল। গোলাম রব্বানী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনিও বেগম খালেদা জিয়া-তারেকের আস্থাভাজন নেতা। দৌলতুজ্জামান আনছারী একবার উপজেলা পরিষদ এবং সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে জাপার পর্যাপ্ত ভোটার থাকলেও দলের কিছু নেতার কারণে দৌলতুজ্জামান আনছারী হেরে যান । এ ক্ষোভে তিনি জাতীয় পার্টি ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনিও বিএনপি’র ব্যানারে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জুও প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান। অবশ্য লাঞ্জুর প্রার্থী হবার বিষয়টি মির্জা আজমের বিজয় নিশ্চিত এবং বাবুলকে ঠেকানোর একটি রাজনৈতিক চাল বলে মনে করছেন মেলান্দহ বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হাজী রফিকুল ইসলাম রহিম।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বিএনপি’র আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে হাইকমান্ডেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। তিনি মাদারগঞ্জের বাসিন্দা।

দৌলতুজ্জামান আনছারী জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদানের পর মেলান্দহ জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী ছিলেন জাপার সভাপতি আলহাজ কিসমত পাশা। কিসমত পাশা এবং তার ভাই সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী দিদার পাশা আ’লীগে যোগদানের পর সেই সুযোগ হারান।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির সম্ভাবনাময় প্রার্থী উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি, পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি রবিউল ইসলামও আ’লীগে যোগদান করেন। তাই জাতীয় পার্টি উদীয়মান তরুণ নেতা উপজেলা জাপার আহ্বায়ক মীর শামসুল আলম লিপটনই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশার আলো দেখছেন। এরশাদের আস্থাভাজন আরেক ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় ছাত্র সমাজের সাবেক পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি মিজানুর রহমানও মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ড ভাটা পড়লেও এই আসন থেকে বর্তমানে জামালপুর শহর জামায়াতের সেক্রেটারি সাবেক শিবির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক হারুন অর রশিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন মনোনীত হাতপাখা মার্কার প্রার্থী হচ্ছেন হাফেজ মাওলানা হেকিম বুরহান উদ্দিন। এজন্য তিনি মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করেছেন। সদ্য যুক্তফ্রন্টে যোগদানকারী বাংলাদেশ শরীয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আমীর হাফেজ মাওলানা সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ আগে থেকেই পোস্টার-ফেস্টুনসহ প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাকের পার্টি থেকে আ: হাকিম শান্তি চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সভাপতি-চারুশিল্পী প্রিন্সিপাল আব্দুর রউফ হীরাও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাদারগঞ্জ থেকে বামফ্রন্টের কেন্দ্রীয় গণমুক্তি ইউনিয়নের সদস্য-ইউপি চেয়ারম্যান শিবলুল বারী রাজু ছাড়াও মেলান্দহের কেন্দ্রীয় যুব ইউনিয়নের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের কথাও আলোচনায় আসছে।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা পরিস্থিতি যাই হোক নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যেই।