ভোটে বড় বিজয়ের আশা আওয়ামী লীগের

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪২

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বিশাল জনপ্রিয়তার কারণে আওয়ামী লীগ এখন অনেক শক্তিশালী। বিভিন্ন জরিপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির তথ্য উঠে আসছে বেশ কিছুদিন ধরেই। ২০১৩-১৪ সালে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমন করে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই বেড়েছে তার জনপ্রিয়তা। এছাড়া শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে এবার অধিকাংশ নির্বাচনী আসনে মান-অভিমান কোন্দল-বিভেদ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যেসব নেতার মুখ দেখাদেখি ছিল না দীর্ঘদিন তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারণাযুদ্ধে সামিল হয়েছিলেন। দলের নেতাকর্মীদের এমন ঐক্যবদ্ধ হওয়া দেখে দলীয় হাইকমান্ড থেকে শুরু করে সবার একটা আত্মবিশ্বাস হয়েছে যে, আজ রবিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় বিজয় পাবে আওয়ামী লীগ। তবে ভোটে জনরায় যাই আসুক না কেন তা মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ দলটি। নির্বাচনের ফলাফল নেতিবাচক হলেও মেনে নেবে আওয়ামী লীগ। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার সকাল ৮টায় বরাবরের মতো ঢাকা সিটি কলেজ ভোট কেন্দ্রে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ঢাকা-১০ আসনভুক্ত ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কের নিজ বাড়ি ‘সুধাসদনের’ ভোটার হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেন, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে হারানোর ক্ষমতা কারো নেই। এটা বুঝতে পেরে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট ভোট বানচাল করতে নাশকতা চালানোর পাঁয়তারা করছে। তাই সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যাতে নাশকতা চালাতে না পারে সেজন্য ভোট কেন্দ্র ও এর আশপাশের এলাকা পাহারা দিচ্ছেন দলের নেতাকর্মীরা। সঙ্গে রাখা হয়েছে এলাকার মুরব্বিদের। ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি আগেই গঠন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটিগুলোতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জোটভুক্ত দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সমমনা জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, এলাকার মাতব্বর, পল্লী চিকিত্সক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

গতকাল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘জনগণ আওয়ামী লীগে ভোট দিয়ে  বিজয়ী করবে বলে আমরা আশাবাদী। এরপরও যদি ভোটাররা আমাদের ভোট না দেয় এবং জনরায়ে যে ফলাফলই আসুক আমরা তা মেনে নেব এবং স্বাগত জানাব।’ আব্দুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কোনো ব্যর্থ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সঙ্গে থাকতে চায় না। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদ দেওয়ার কারণেই বিএনপি-জামায়াত ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতিকে বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের জরিপের ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করেছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর ডি সি, টাইম ম্যাগাজিন, হিন্দুস্তান টাইমস সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আভাস দিয়েছে আবারো বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রাখার জন্য ভোট প্রদান করবে।’ বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এমন দাবি করে আব্দুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে চরম দেউলিয়া ও ব্যর্থতার ভারে নত বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট সংঘাত সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। একদিকে গণমাধ্যমে লাগাতার মিথ্যাচার গুজব সৃষ্টি, অন্যদিকে সহিংসতা সন্ত্রাস সৃষ্টি অপতত্পরতায় লিপ্ত রয়েছে।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে আব্দুর রহমান বলেন, ‘ আজকের জাতীয় নির্বাচন দেশের ও জনগণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজ জনগণের ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে জাতির ভবিষ্যত্। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তি জয়ী হবে, নাকি বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি জয়ী হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে নাকি আবারও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কবলে পড়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা মুখ থুবড়ে পড়বে, তা নির্ধারণের দিন আজ।’ আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতন্ত্র-উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। গণতন্ত্র না থাকলে উন্নয়ন হয় না। গণতন্ত্র ছিল বলেই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য রিয়াজুল কবির কাউসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।