সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে নয়ছয় চলছেই। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে ডিলার হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ৭৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। যার মূল্য ২৩ লক্ষাধিক টাকা। এদিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ কেজির পরিবর্তে সাড়ে ৯ কেজি চাল দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, বছরের পাঁচ মাস ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি জনকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম। গত বৃহস্পতিবার ঐ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২২ জন ভুক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চাল আত্মসাতের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গজারিয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকায় ৫৬০ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক সুবিধাভোগী ২০১৯ সাল থেকে চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১৭ মাসে কোনো চাল পাননি। ঐ কর্মসূচির ডিলার হামিদুর রহমান এসব সুবিধাভোগীর ৭৫ মেট্রিক টনের বেশি চাল আত্মসাত্ করেছেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে গজারিয়া ইউনিয়নের বাউশি গ্রামের ছবিয়া বেগম, কায়ছার আলী ও স্বপ্না বেগম জানান, আমরা সবাই নদীভাঙনের শিকার। অথচ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম থাকার পরও আমরা চাল পাচ্ছি না।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, চাল আত্মসাতের বিষয়ে আমার কাছে কিছু ভিডিও ফুটেজও এসেছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত ডিলারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার হামিদুর রহমান বলেন, যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের নাম অফিস থেকে কেটে তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার মালখানগর, মধ্যপাড়া ও কোলা ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি করে সরকারি চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপকারভোগীদের দেওয়া হচ্ছে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম বা ৭০০ গ্রাম করে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রতি বস্তায় কিছু চাল কম এসেছে। তাই মাথাপিছু সমন্বয় করতে গিয়ে ২০০-৩০০ গ্রাম করে চাল কম দিতে হচ্ছে।
