রাজধানীর তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকার এক বাসায় (১৬) বছরের এক তরুণীকে ২৫ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। ঐ দম্পতি হলো নাজির হোসেন (৪৮) ও তার স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩০)। গত শুক্রবার তুরাগ থানাধীন চন্ডালভোগ বালুর ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঐ বাসা থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং তাদের আটক করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিনা পুলিশের কাছে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করছে। এদিকে ধর্ষণের শিকার তরুণী বাদি হয়ে তুরাগ থানায় গত শুক্রবার রাতে একটি ধর্ষণ মামলা করেন। জানা গেছে, এ তরণীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। করোনা সংকটের শুরুর দিকে ঐ তরুণী কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে আটকে পড়েন। এ সময় তুরাগ এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করা সেলিনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেলিনা তরুণীকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে রাজধানীর আনন্দ বাজারে একটি বাসায় রাখে। এরপর সেখান থেকে তুরাগের চন্ডালভোগে তার বাসায় নিয়ে যায়। এরপরই সেলিনা তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক করার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে রাজি না হলে সেলিনা স্বামীর সঙ্গে তরুণীকে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেয়। তাতেও রাজি না হওয়ায় তরুণীকে ধর্ষণ করতে স্বামীকে সহায়তা করে সেলিনা। এভাবেই ২৫ দিন মেয়েটিকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার মেয়েটির মাথার চুল কেটে দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে ধর্ষণের ঘটনা এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে ঐ তরুণী তুরাগ থানায় অভিযোগ করেন।
তুরাগ থানার ওসি নুরুল মোত্তাকিন গতকাল শনিবার জানান, পুলিশ ঐ তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেছে। একই সঙ্গে শুক্রবার রাতে চন্ডালভোগ এলাকা থেকে সেলিনাকে ও শনিবার সকালে তুরাগের দিয়াবাড়ি থেকে ধর্ষক নাজির হোসেনকে আটক করেছে। এরপর শনিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঐ দম্পতিকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
