ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস (কোভিড-৯) ছড়িয়ে পড়া রোধে ছুটি ও লকডাউনের প্রভাব পড়েছে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। জরুরিভাবে স্বাস্থ্য খাতসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া ছাড়াও নতুন করে সাজাতে হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের খরচের হিসাব। এখন থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) থাকা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করতে পারবে না কোনো মন্ত্রণালয়। এসব প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে। শুধু তাই নয়, অগ্রাধিকার ও মাঝারি অগ্রাধিকার প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নতুন আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
এতে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) চূড়ান্ত হয়েছে এবং সে অনুযায়ী অর্থ বিভাগ থেকে ২৯ মার্চ বাজেট কর্তৃত্ব জারি করা হয়েছে। কিন্তু সমসাময়িক সময়ে বৈশ্বিক মহামারি আকারে নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে (আরএডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এই নীতিমালা অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর আওতাধীন দফতর/ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘মধ্যম অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে যেসব খাতে অর্থ ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী, মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো স্বীয় বিবেচনায় সেসব খাতে অর্থ ব্যয় করবে এবং মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো ‘নিম্ন অগ্রাধিকার’ চিহ্নিত প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় বা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের পূর্বসম্মতি নিতে হবে। অবশ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পগুলো উল্লিখিত নির্দেশের বাইরে বা আওতামুক্ত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ১ লাখ ৯২ হাজার ৯২১ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৫৯৭টি। এর মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পই রয়েছে ৩৩০টি। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ছুটির কারণে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক প্রকল্পের কাজ এখন বন্ধ। রাজস্ব আদায়ে এবার বড়ো ধাক্কা আসছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। তাছাড়া বাজেট ঘাটতিও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টাকা কেটে অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে। তাছাড়া অর্থনীতি সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আরএডিপি যেসব কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে তার বাস্তবায়ন কাজ এখন থেকে বন্ধ থাকবে। শুধু এই প্রকল্পে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়ার ক্ষেত্রে অর্থ ছাড় করা হবে।
এদিকে অর্থবিভাগ ১২ এপ্রিল অপর এক পরিপত্রে উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থছাড়ের বিষয়টি সহজ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত কর্তৃত্ব অনুযায়ী মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে পরিচালন বাজেটের আওতায় সাহায্য মঞ্জুরি হিসেবে প্রদত্ত বরাদ্দের চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনিক কোনো সম্মতির প্রয়োজন হবে না। উক্ত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছাড় হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ এ অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে।
