এক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরো পাঁচ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৮

দেশে এক দিনে আরো ৪১৮ জনের মধ্যে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ জন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫ জন হয়েছে। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রবিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে তিন জন পুরুষ, দুই জন নারী। তাদের মধ্যে চার জন ছিলেন রাজধানীর বাসিন্দা, আরেক জনের বাড়ি ঢাকার দোহারে।

যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে এক জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সি তিন জন। মৃতের মধ্যে বেসরকারি সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এভিপি মুগদা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে এই প্রথম এক জন ব্যাংক কর্মকর্তা মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। এছাড়া ১০ বছরের কম বয়সি এক শিশুও আছে মৃতদের মধ্যে। নাসিমা সুলতানা বলেন, যে শিশুটি মারা গেছে তার নেফ্রটিক সিনড্রোম, কিডনির অসুস্থতা ছিল। তারপরে তার কোভিড পজিটিভ হয়েছে। বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩ হাজার ৬৮০টি, তার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা। কোভিডি-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের তথ্য জানাতে গিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে থেকেই চিকিত্সা নেন। তারা সুস্থ হয়ে গেলে সে তথ্যটা এখানে আমরা দিই না। যারা হাসপাতাল হয়ে বাসায় যান, তাদের তথ্যটাই দেই।’ কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭৫ জনকে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৬৪ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৮৯১ জনকে। সারাদেশে এখন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৭৯ হাজার ৮৯৯ জন। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য সারাদেশে ৬০১টি ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে, যাতে ৩০ হাজার ৬৩৫ জনকে রাখা যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী মজুত রয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৪টি। করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য কী পরিমাণ কিট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এখন মজুদ রয়েছে সেই তথ্যটি না জানিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ‘পিসিআর পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে কিট সংগৃহীত আছে। পরীক্ষার কিট নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা ধারাবাহিকভাবে আমদানি করে যাচ্ছি। নমুনা সংগ্রহের সোয়াব স্টিকেরও ঘাটতি নেই। একটি দেশি কোম্পানি নিয়মিত তা সরবরাহ করে যাচ্ছে।’ মোট ৪ হাজার ২০২ জন চিকিত্সক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরগুলোর মাধ্যমে স্বেচ্ছাভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথমদিকে কয়েক জন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নিয়েছে আরো নানা পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপের মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায়, বিশেষত ঘরে রাখা। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী, র্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না বিধায় করোনা ভাইরাসের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।