বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস সংক্রান্তকরণ কিট পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও তা গ্রহণ করেনি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা কিটের উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীলসহ তিন জন গতকাল রবিবার সকালে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এটি জমা দিতে যান। তবে ঔষধ প্রশাসন তা গ্রহণ করেনি। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিন জনের একজনকে ঔষধ প্রশাসনের কার্যালয়ে প্রবেশও করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঔষধ প্রশাসন আমাদের বলেছে এটার অনুমোদন নেই বলে তারা গ্রহণ করতে পারছেন না। কনটাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশনের মাধ্যম হয়ে আসতে হবে গণস্বাস্থ্যকে। দেখেন কী আমলাতান্ত্রিকতা! এসময় তিনি বলেন, আমি বলতে চাই, সরকারি খরচের জন্য যা টাকা লাগে দেব। তবে কোনো ঘুষ দিতে পারব না। কোনো ব্যবসায়ীকে টাকা দিতে পারব না। এতে আমাদের কিট অনুমোদন হোক বা না হোক। গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, দেবেও না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট ব্যবহারযোগ্য হয়ে আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না। কিন্তু লড়াই করে যাব।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আপনারা জানেন গতকাল (শনিবার) আমরা করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট হস্তান্তরের একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম এটা অনুমোদনের জন্য। আর তা করার দায়িত্ব হচ্ছে ঔষধ প্রশাসনের। দুর্ভাগ্য ঔষধ প্রশাসন এমন লোকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে—যারা না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মাকোলজিস্ট। যার ফলে তারা এই জিনিসগুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন না। তারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক স্বার্থ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। সেখানে জনগণের কোনো স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি করা ছাড়া তাদের ঘুম ভাঙে না।
তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিতে আমি ছিলাম, সেখানে বলেছিলাম যে ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে, তবে কোম্পানিকে লাভ দিয়ে। কিন্তু কালে-কালে এখানে কোম্পানির স্বার্থটাই বড়ো হয়ে গিয়েছে। ঠিক গণস্বাস্থ্যের কিট ‘জিআর র্যাপিড ডট ব্লট ইমিউনোঅ্যাসি’র ক্ষেত্রেও তারা একই ঘাপলাটা করেছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, আমরা ঔষধ প্রশাসনকে বলেছি—আপনারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে লিখে দেন এই কিটগুলো পরীক্ষা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা বলে সেটা করতে পারবে না। তার অভিযোগ, সরকারের ঔষধ প্রশাসন ব্যবসায়িক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিটটি কার্যকর কি-না, তা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি পদে-পদে পায়ে শেকল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি একটা জিনিস তৈরি করেছি। এটা ভালো কী মন্দ দেখার দরকার সেই ব্যক্তির যার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি যদি তাদের টাকা দিয়ে সেটা করাই, তাহলে আমার টাকা খেয়ে কেউ কী বলবে, এটা খারাপ? এরা সরকারের পতনের জন্য জনগণকে ক্ষিপ্ত করাচ্ছে। জনগণকে তারা অকারণে ক্ষিপ্ত করাচ্ছে।
কিট তৈরির জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক দলের সদস্য ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, দেশে এখনো করোনা শনাক্তকরণের কিটের কোনো নীতিমালা নেই। আর এমন জরুরি অবস্থায় তার দরকারও নেই। এরমধ্যেও যত প্রকারের ডকুমেন্ট চেয়েছেন সব জমা দিয়েছি। যতগুলো কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করতে বলেছে আমরা তা ধাপে-ধাপে করেছি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কেউ ঘুষ চেয়েছেন কি-না, এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ বলেন, না ঘুষ চাওয়া হয়নি। সেই সাহস তাদের নেই। গবেষণার দুর্নীতি এটা নতুন নয়। আপনাকে হয়রানি বারবার করা হলে একসময় নিজে থেকে খোঁজ নিবেন বড়ো কর্মকর্তার বাসার বাজার আছে কি-না। ঘুষ তো নানাভাবে নেওয়া হতে পারে। কিন্তু আমরা কাউকে টাকা দিতে পারব না।
