ঢাকার রাস্তায় ‘ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর’

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪১

মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির বহু মানুষের টাকা জমা রয়েছে ডাকঘরে। সঞ্চয়পত্রের সুদের টাকা না পেলে অনেকের ঘরেই চুলাতে হাড়ি উঠবে না। মধ্যবিত্ত শ্রেণি যাতে কোনো ধরনের সংকটে না পড়ে সে কারণে রাজধানী ঢাকায় চালু হয়েছে ‘ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর’। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির’ আদলে রাজধানীতে ৫টি গাড়ি দিয়ে চালু করা হয়েছে ‘ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর’। দুর্যোগ সময়ে এই ডাকঘর থেকে টাকা তোলা বা জমা দেওয়া সবই করা যাচ্ছে এই ভ্রাম্যমাণ ডাকঘরে। পর্যায়ক্রমে পুরো দেশেই এই সেবা চালু হবে।             ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, ‘যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে এখন কেউই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। পোস্ট অফিসে এসে অনেকের পক্ষেই আমানতের সুদের টাকা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। দেশে বহু পরিবার সঞ্চয়ের সুদের ওপর নির্ভরশীল। যদিও সম্প্রতি যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন তাদের সুদের টাকা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে চলে যায়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষকেই পোস্ট অফিসে গিয়ে টাকা তুলতে হয়। এই কারণে আমরা ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর করেছি। যাতে বাসার আশপাশ থেকেই প্রয়োজনীয় টাকা মানুষ তুলতে পারেন। এখন ঢাকা শহরে ৫টি ‘ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর’ চালু রয়েছে। এক-দুই দিনের মধ্যেই সংখ্যাটা বাড়বে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ থেকে ছুটি শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক পোস্ট অফিস থেকে সেবা নিয়েছেন। এই সময়ে মানুষ ৬১১ কোটি টাকা ডাকঘর থেকে তুলেছেন। আর ডাকঘরে জমা রেখেছেন ১৫৮ কোটি টাকা। মন্ত্রী বলেন, এখন ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর চালুর ফলে জমা রাখা বা টাকা উঠানো অনেক সহজ হয়ে গেছে। দুই এক দিনের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে, কোনো এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ডাকঘর কখন অবস্থান করবে। গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সেটা হলে প্রতিদিনই মানুষ ঘরের কাছ থেকে টাকা উঠাতে বা জমা দিতে পারবেন। কাউকে কষ্ট করে পোস্ট অফিসে এখন থেকে আর যেতে হবে না।

এক জন কর্মকর্তা জানান, ‘ডাকঘরে গেলে গ্রাহকরা যে ধরনের সার্ভিস পেতেন, ভ্রাম্যমাণ ডাকঘরেও একই ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সঞ্চয়পত্র থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের আমানত রাখার সুযোগ সেখানে আছে। পাশাপাশি যাদের আমানত আছে, তারাও মেয়াদোত্তীর্ণ সুদের টাকাও তুলতে পারছেন। এখন গাড়িগুলো সূচি ঠিক করে রাজধানীবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও এই সেবা চালুর চেষ্টা চলছে’।