এই সময়ে বয়স্কদের যত্নে

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ১৯:৫২

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন বয়স্করা। যে কারণে তাদের জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন—

মাস্ক ব্যবহার করুন : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কেউ যদি কভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের উপসর্গ (যেমন জ্বর, গলাব্যথা, কাশি) অনুভব করেন তাকে এবং সব স্বাস্থ্যকর্মীকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে জনসমাগমস্থলে মাস্ক ব্যবহার করা উত্তম এবং নিরাপদ। মাস্ক ব্যবহারের আরেকটি উপকারী দিক হচ্ছে অবচেতন মনে নাকে-মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা যায়।

নাক, মুখ ও চোখে হাত দিবেন না : কভিড-১৯ ভাইরাসটি লেগে আছে—এ রকম জিনিস স্পর্শ করলেই কিন্তু আপনি আক্রান্ত হবেন না। ভাইরাস আছে এমন জায়গা স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন, তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়ে। তাই করোনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে মুখ, নাক ও চোখ স্পর্শ না করা।

হাত পরিস্কার করুন :প্রতিবার বাইরে থেকে এসে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন। মনে রাখবেন, সাবান হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়ে বেশি কার্যকর। ডাইনিং রুমে যে একটি বিশেষ বেসিন থাকে সেখানে বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া থেকে আপাতত বিরত থাকুন। সবচেয়ে ভালো হবে বাসায় প্রবেশের দরজার বাইরে একটা নির্দিষ্ট স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রেখে দেওয়া এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা।

কাপড় ধোয়ায় সতর্ক থাকুন :বাইরের পরা কাপড় অবশ্যই আলাদা বালতিতে, পানিতে গুঁড়া সাবান দিয়ে ভিজিয়ে রাখবেন। আপনার বাইরে পরা কাপড় বাসার শিশু বা অন্যদের কাপড়ের সঙ্গে একই বালতিতে ধোয়া থেকে বিরত থাকুন।

সঙ্গে রাখুন হ্যান্ড স্যানিটাইজার : ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় যেখানে সাবান-পানি পাওয়া যাবে না সেখানে যেমন: রিকশায়, দোকানে, অফিসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন।

মোবাইল ব্যবহারে সতর্ক থাকুন :মোবাইল ফোন প্রতিদিন অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুন। কারণ এটি জীবাণু ছড়ানোর প্রধান দুটি মাধ্যম—মুখ ও হাতকে একদম কাছাকাছি নিয়ে আসে।

ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফল খান :এই সময় যত বেশি পারেন ভিটামিন ‘সি’যুক্ত ফল (কমলা, লেবু, মাল্টা, পেয়ারা) খান। কারণ ভিটামিন ‘সি’ ঠাণ্ডা, সর্দি ও ফ্লু প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ সময় প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

ঘরেই থাকুন :সামাজিকতা রক্ষার জন্য অযথা কারো বাসায় দেখা করতে বা বেড়াতে যাবেন না। আপনি সুস্থ হলেও না। কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য ঘরে বসে দোয়া করুন। হাসপাতালে নিকটাত্মীয় ভর্তি থাকলে তার পরিচর্যাকারী ছাড়া কেউ দেখতে যাবেন না। খুব বেশি দরকার না হলে সেলুন বা পার্লারে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আতঙ্কিত হবেন না :করোনায় বয়স্করা বেশি মারা যাচ্ছে ভেবে ভীত হবেন না। মনে সাহস রাখুন, সচেতন থাকুন। প্রয়োজনে হটলাইনে ফোন করুন বা পরিচিত চিকিত্সকের সঙ্গে ফোনে কথা বলুন।

শিষ্টাচার মেনে চলুন :হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, এক টিস্যু একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না। টিস্যু না থাকলে নিজের বাহুর বা কনুইয়ের মাঝে মুখ ঢেকে হাঁচি-কাশি দিন।