করোনা :ইতালিতে ৪ মে থেকে লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ২০:৫৪

গত ৯ মার্চ থেকে ইতালিয়ানরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে, যা এখন পর্যন্ত ইউরোপের কোনো দেশে জারি থাকা দীর্ঘ লকডাউন

বিবিসি

করোনা ভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত ইতালিতে সাত সপ্তাহ ধরে জারি থাকা লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ মে থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কোন্তে। মধ্য মার্চের পর থেকে গত রবিবার দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর সর্বনিম্ন রেকর্ড হয়েছে, এ পরিস্থিতেই দেশটির কর্তৃপক্ষ লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে কোন্তে বলেন, অল্প অল্প করে লোকজনকে তাদের আত্মীয়স্বজনদের দেখতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। পার্কগুলোও খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু স্কুলগুলোতে সেপ্টেম্বরের আগে ক্লাস শুরু হবে না। টেলিভিশনে দেওয়া ঘোষণায় কোন্তে লকডাউন শিথিলের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লোকজনকে তাদের নিজ অঞ্চলের মধ্যে ঘোরাফেরার অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু তারা অন্য অঞ্চলে যেতে পারবেন না। শেষকৃত্য আবার শুরু হবে, কিন্তু সর্বোচ্চ ১৫ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং উন্মুক্ত স্থানে করাটাই বাঞ্ছনীয় হবে।

৪ মে থেকে খাবার বিক্রির জন্য (এখনকার মতো শুধু সরবরাহ নয়) বার ও রেস্তোরাঁগুলো খোলা হবে এবং অবশ্যই ক্রেতারা খাবার কিনে বাড়িতে অথবা অফিসে নিয়ে খাবে। প্রথম পর্বে বিধিনিষেধ শিথিলের আওতায় এরই মধ্যে খোলা মুদি দোকানসহ অন্য সব খুচরা পণ্যের দোকান ১৮ মে থেকে খোলা যাবে, পাশাপাশি জাদুঘর ও লাইব্রেরিও খোলা যাবে। আসছে মাসগুলোতেও সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে বলে জোর দিয়েছেন কোন্তে এবং গির্জায় উপাসনা বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন। লোকজনকে পরস্পরের মধ্যে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১ জুন থেকে সেলুন, বিউটি পার্লার, বার ও রেস্তোরাঁ পুরোপুরি খোলা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৯ মার্চ থেকে ইতালিয়ানরা দেশ জুড়ে জারি করা ঘরবন্দি দশায় আছেন। প্রত্যেককেই তাদের বাড়ির দরজা থেকে কয়েকটি রাস্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ১৪ এপ্রিল বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম পর্বে বইয়ের দোকান, ড্রাই ক্লিনার্স ও স্টেশনারির মতো ছোটো কিছু দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। একসঙ্গে অনেক ক্রেতার সমাগম হয় না বলে এসব দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর সংক্রমণের সংখ্যা যদি ফের বাড়তে থাকে তবে সরকার ফের বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

 

 

০