ইত্তেফাক রিপোর্ট
সরকার গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের বেতনভাতা প্রদানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। ঐ গাইডলাইনে মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে গার্মেন্টসের শ্রমিকের বাইরে অন্য কর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাত্ ঐ নীতিমালা অনুযায়ী কারখানায় কাজ করা মার্চেন্ডাইজিং, বিপণন, মানবসম্পদ, প্রশাসন, কমপ্লায়েন্স, কমার্শিয়াল, প্রোডাকশন ও কোয়ালিটি বিভাগে কর্মরতরা প্রণোদনার অর্থ থেকে বেতন নিতে পারবে না। জানা গেছে, গার্মেন্টস খাতে ৪০ লাখ শ্রমিকের বাইরে কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে আরো প্রায় ৮ লাখ লোক কর্মরত। এর মধ্যে কারো কারো বেতন এক জন শ্রমিকের চেয়েও কম। তারা বলছেন, প্রণোদনার অর্থ থেকে তাদের বেতন দেওয়া না হলে তাদের বেশির ভাগই বেতন পাবেন না। এর ফলে বিশাল সংখ্যক কর্মী ও তাদের পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যাবেন। সম্প্রতি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশন (বিজিইএ) অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। প্রণোদনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অফিসেও। বিজিইএর সাধারণ সম্প্রতি ইমদাদুল হক মিয়াজি বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্পে শ্রমিকের বাইরে এ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও শিল্পের উত্পাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, দেশের একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না। এ দুঃসময়ে কর্মকর্তাদের বেতনের বাইরে রেখে শুধু শ্রমিক-কর্মচারীকে প্রণোদনার মাধ্যমে বেতনভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক। মানবিক বিবেচনায় আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীর মতো প্রণোদনার আওতাভুক্ত করে বেতনভাতা দেওয়া না হলে আর্থিক সংকটে পড়ে যাবো।
