ভোট যেন কেউ চুরি না করতে পারে:ফখরুল

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:৪২

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এক প্রতিকূল পরিবেশে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপিসহ তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল। নানা সংশয়-শঙ্কা থাকলেও তাদের নেতারা আশাবাদী যে কারচুপি না হলে আর ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারলে ধানের শীষের বিজয় হবে। বিএনপি বলছে, ভোটের মাঠে দলের আজকের মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে পোলিং এজেন্ট দেওয়া নিয়ে। অনেক এলাকায় পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি তারা। এদিকে বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে গতকাল জেল থেকে দলের নেতাদের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা ভয়-ভীতি-শঙ্কা উপেক্ষা করে সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রে যান, দুর্বৃত্তরা পালাবে। তরুণ ও যারা প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা সময়মতো ভোট দিতে যাবে। মনে রাখবে, ‘যদি তুমি ভয় পাও তবেই তুমি শেষ, যদি তুমি ঘুরে দাঁড়াও, তবে তুমিই বাংলাদেশ।’

বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল ঠাকুরগাঁও নিজ নির্বাচনী এলাকায়  সাংবাদিকদের বলেন, সরকার বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট তথা বিরোধীদলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও হয়রানি চালিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও এবার আর জনগণ ভোটের মাঠ ছাড়বে না। আমরাও পণ করেছি— যত বাধাই আসুক সহজে বের হচ্ছি না। ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে জনগণ। তিনি বলেন, ‘ভোট পাহারা দিতে হবে এবং ভোট যেন কেউ চুরি না করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আমরা আশা করি যদি ভালো পরিস্থিতি থাকে, তা হলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবে।’

খালেদা জিয়ার বার্তা: এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী আহমদ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে সাধারণ ভোটার, ধানের শীষের সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়েছেন। বেগম জিয়ার এই বার্তায় বলা হয়, আজ আপনাদের সুযোগ এসেছে স্বৈরশাসকদের হাত থেকে মুক্তিলাভের। দেশকে মুক্ত করার। সকল হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আপনাদের এক একটি ভোট নিশ্চিত করতে পারে জনগণের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। ফলাফল না নিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ভোট শুরুর আগে ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করবেন। ভোট দিয়ে কেন্দ্রের আশপাশে থাকবেন। ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে কে কত ভোট পেল তা নিশ্চিত না হয়ে সাদা কাগজে সই করবেন না। কোনো অবস্থাতেই প্রিজাইডিং অফিসারের সই ছাড়া সই করবেন না।

১৬ প্রার্থী কারাগারে: এবারে নির্বাচনে বিভিন্ন মামলায় আটক ও নতুন করে আটক করা হয়েছে এমন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ১৬ প্রার্থী জেলে বসে নির্বাচন করছেন। সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর নাশকতার মামলায় যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী জামায়াত নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদত্ হোসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এছাড়া ধানের শীষের অন্য কারাবন্দি প্রার্থীরা হলেন: ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হামিদ, রাজশাহী-৬ আসনে আবু সাঈদ চাঁদ, মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার হোসেন, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-২ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, গাজীপুর-৫ আসনে এ কে এম ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবীর খোকন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এস এম জিলানী, কুমিল্লা-১০ আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. শাহাদাত চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু।