কঠোর হইবার সময় এখনই

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:০৩

সারাদেশ হইতে ত্রাণসামগ্রী চুরি ও লোপাটের সংবাদ আসিতেছেই। দেখিয়া-শুনিয়া আমরা ইহাই বুঝিতেছি, সরকারের শীর্ষ পর্যায় হইতে যতই এই ত্রাণ চুরি বন্ধ করিতে নির্দেশ আসিতেছে, মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্টরা ততধিক উত্সাহের সহিত চুরির উত্সব চালাইতেছেন। মনে হইতেছে তাহাদের গোচরে ভিন্ন অর্থ প্রবেশ করিতেছে। যাহার উদ্দেশে সরকারের প্রধান নির্বাহী বলিতেছেন—‘চাউল চুরি করিবেন না’, সেই মাঠ পর্যায়ের ব্যক্তিই শুনিতেছেন ‘চাউল চুরি করিবেন!’ ঐ ‘না’ শব্দটি তাহারা আকুল কামনার সহিত কর্ণে গ্রহণ করিতে পারিতেছেন না।

এই চুরির আবার নানা প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হইতেছে। প্রায় সর্বত্র। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হলফ করিয়া কেহ বলিতে পারিবে না যে, ১০ কেজির খয়রাতি সাহায্যের প্যাকেটে ১০ কেজি চাউলই রহিয়াছে! আবার কোথাও উধাও হইয়া যাইতেছে বস্তায় বস্তায় চাউল। সত্যি কথা বলিতে কি, উন্নয়নশীল দেশে যে খয়রাতি সাহায্য দেওয়া হয় তাহার সিংহভাগই সত্যিকারের দুস্থ জনগোষ্ঠীর নিকট পৌঁছায় না। আবার সকল ক্ষেত্রেই যে চেয়ারম্যান, মেম্বার বা জনপ্রতিনিধিরাই এই চৌর্যবৃত্তির কুশিলব তাহা নহে। আমরা ভালো করিয়াই জানি, প্রশাসনের একধরনের অসত্ কর্মকর্তার সহায়তা ছাড়া এই অপকর্ম সম্ভব নহে। কে না জানে যে, কাহারা এই চুরির সহিত জড়িত? কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা চুরির সংবাদ প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত হইলে দেখিতে পাই—একটি ‘তদন্তের’ নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে; কিন্তু দুঃখের বিষয়—এই তদন্ত আর শেষ হয় না। অথবা ঠিকই দোষী ব্যক্তি পিছলাইয়া বাহির হইয়া আসে!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হইতেই আমরা দেখিয়া আসিতেছি এই ধারা। এই শ্রেণির উদ্ভব এবং পৃষ্ঠপোষকতা চলিতেছে তখন হইতেই। এই শ্রেণির প্রতি যদি সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত চলিতেই থাকে তাহা হইলে উন্নয়নের সুফল কোনো দিন ঘরে তোলা যাইবে না। অর্থনীতি তলানিতেই পড়িয়া থাকিবে। সুতরাং জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত মাল যাহাতে লুট না হয় তাহার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করিতে হইবে নীতিগতভাবে এবং বাস্তবে। এই কঠোরতাই কেবল সুফল দিতে পারিবে। এবং এখনই প্রকৃত সময় সেই কঠোরতা প্রদর্শনের। ছোটো হউক বা বড়ো, কাহাকেও বিশেষ বিবেচনায় আনিতে গেলে কঠোরতা প্রদর্শন সম্ভব হইবে না। কে নেতা? যাহার বাড়ি হইতে ত্রাণের চাউল উদ্ধার করা হয়, তিনি একটি দেশে জনগণের নেতা হইতে পারেন না। প্রকৃত অর্থে জনগণও তাহার সহিত নাই। কর্মেই মানুষের পরিচয়। স্বল্প হইলেও কিছু স্থানে কোনো কোনো জনপ্রতিনিধি সরকারের ত্রাণের পাশাপাশি নিজেদের পকেটের মূল্যবান অর্থ ব্যয় করিয়া এলাকার জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করিতেছেন। নেতা তাহাদেরই কেবল বলা যাইতে পারে। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি পর্যায়ে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হইতেছে সেই ক্ষেত্রে কোনো চুরির অভিযোগ আসিতেছে না। কেন, ইহাও ভাবিতে হইবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের।