মানবতা কবে জাগ্রত হবে!

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ২২:১০

ক্রান্তিকালে মানুষের লোভ, অসততার বদলে বিবেক জাগ্রত হবে এমনটাই কাম্য। অথচ করোনার কারণে আমাদের দেশের কতিপয় মহলে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এখন সাধারণ মানুষ করোনার পাশাপাশি গভীর অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন। সেই প্রান্তিক মানুষের জন্য ত্রাণ বা স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পাওয়া এখন অন্ধের যষ্ঠি। কিন্তু সে তো অরণ্যে রোদন ! ত্রাণ তার কাছে পৌঁছাতে হলে বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদল হতে হবে। ত্রাণের দায়িত্বে যারা আছেন, বিশেষত স্থানীয় প্রশাসনে, এই ত্রাণসামগ্রী বা স্বল্পমূল্যের নিত্যদ্রব্য পকেটগত করতেও তাদের  হাত কাঁপে না। তাদের কি একবারও মনে হয় না, এই নিরন্ন মানুষের ত্রাণসামগ্রী দিয়ে তারা কীভাবে অতিভোজনের উত্সব করবে! লকডাউনের মধ্যেও থেমে নেই নারীর ওপর বর্বরতা, নির্যাতন বরং বেড়েছে বই কমেনি। ‘করোনা সংবাদ’-এর ভিড়েও পত্রিকায় প্রায়ই পড়ি নারী ধর্ষণ অথবা নির্যাতনের খবর (আরো অনেক নির্যাতনের ঘটনা হয়তো সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছায়ই না।) আর চিকিত্সাসেবার ক্ষেত্রে তো দ্বৈত চিত্র। প্রথমত চিকিত্সকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সবার আগে নিশ্চিত করা জরুরি। অথচ অনেক চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করতে হয়েছে, হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির দায় কে নিবে? অন্যদিকে অনেক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কোনো কোনো রোগীকে ‘করোনা আক্রান্ত সন্দেহে’ ন্যূনতম চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত করেছেন। অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্ন জায়গায় চিকিত্সা নিতে গিয়ে কী পরিমাণ নাস্তানাবুদ হয়েছেন তার সংবাদ আমরা কমবেশি সকলেই পেয়েছি। সময়মতো চিকিত্সা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন ঘটনাও আমরা জানি। মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। সরকারি নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি, পণ্য মজুত করার দুরভিসন্ধিতে কম যায় না তারা।

যারা এই ক্রান্তিলগ্নেও নিজেদের লোভ-লালসার জিহ্বাকে সংযত করছে না, বিকৃত ভোগবাদিতাই যাদের লক্ষ্য, তাদের কথা ভেবে সত্যিই অবাক লাগে! তারা কি একবারও ভাবে না যে করোনার এই ছোবল তাদের ওপরও আসতে পারে। আর যাদের পরিবারের সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তাদের অনেকের ঘটনাও দুঃখজনক। করোনায় আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া মানে আপনজনের প্রতি মমত্ববোধ বিসর্জন দেওয়া নয়। এক জন করোনা আক্রান্ত রোগী সবার আগে মানুষ। তাই তার প্রতি মানবিক আচরণ করা এবং বাস্তবসম্মতভাবে তার চিকিত্সার ব্যবস্থা করা পরিবারের সদস্যদের অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব। এই পরিস্থিতিতেও যদি এ সব নীতিবর্জিত মানুষের শুভবুদ্ধি জাগ্রত না হয়, তাহলে তাদের মানুষ বলা যায় কি না সেটা সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়