নগরীর রয়েল সিটি হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় গতকাল সোমবার এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ডা. তানিয়া ও ডা. মনিরুল আহসান হাসপাতাল থেকে সটকে পড়লে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক মাস ১০ দিন পূর্বে রয়েল সিটি হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন ঝালকাঠীর বিনয়কাঠী গ্রামের প্রবাসী সাইফুলের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। কিছুদিন পর পেটে ব্যথা অনুভব করলে গাইনী ডাক্তার তানিয়া আফরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২৩ এপ্রিল রয়েল সিটি হাসপাতালে পুনরায় ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে রোগীর পেটে অস্ত্রপচার করে ডা. তানিয়ার স্বামী সার্জারির ডাক্তার মো. মনিরুল আহসান। পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে রোগীর স্বজনদের জানানো হয় রোগীর জ্ঞান ফিরছে না। তাকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করান। স্বজনরা তাত্ক্ষণিক শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সোনিয়ার ভাই বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করেন ডাক্তারের ভুল চিকিত্সায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি কোতয়ালি মডেল থানায় অবহিত করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে হাসপাতালের পরিচালক কাজী আফরোজা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এ মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। রোগী ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিত্সা যা দেওয়ার তারাই দিয়েছে। কোতয়ালি মডেল থানার ওসি অপারেশন মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন—লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত এর আগেও রয়েল সিটি হাসপাতালে একাধিকবার ভুল চিকিত্সায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তা মীমাংসা করা হয় বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা জানান, গাংনীতে বিনা চিকিত্সায় পাতানী খাতুন (৭০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ করেছে তার স্বজনরা। গতকাল সোমবার দুপুরে গাংনী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পাতানী খাতুন উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের স্ত্রী।
পাতানী খাতুনের ছেলে আওয়াল হোসেন জানান, তার মা উচ্চ রক্তচাপের রোগী। হঠাত্ মায়ের প্রেসার নেমে গেলে তাকে গাংনী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। রোগীর করোনা সংক্রমণ আছে সন্দেহে জরুরি বিভাগের চিকিত্সকরা তাকে চিকিত্সা না দিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বসিয়ে রাখেন। অনেক অনুরোধের পর একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ইসিজি করাতে বলায় আমরা তা করে আনি। পরে তাকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দেওয়ার মাত্র ১ মিনিট পরই খুলে নেওয়া হয়। এর পরপরই তার মৃত্যু হয়।
আওলাদ হোসেন বলেন, বিনা চিকিত্সায় আমার মায়ের বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে শহিদ মিনারে অনশন করতে চেয়েছিলাম। তবে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দিলে লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল আলম বলেন, রোগীকে প্রাথমিক চিকিত্সা সেবা দেওয়ার পর অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। রোগীর স্বজনরা কুষ্টিয়া নিতে গড়িমসি করায় তার মৃত্যু হয়।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি বলেন, গাংনী হাসপাতালে কেন রোগীদের যথাযথ চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে না ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে।
