দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এ পর্যন্ত ৬৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন—বিএমএ। গতকাল সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএমের মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী জানান, এ পর্যন্ত ২৯৫ জন চিকিত্সক, ১১৬ জন নার্স ও ২৪৯ জন অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে বেসরকারি সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) পাঠানো অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিত্সায় নিয়োজিত ৩৮৭ জন চিকিত্সক আক্রান্ত হয়েছেন। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। সর্বোচ্চসংখ্যক ৩১৭ জন ঢাকা বিভাগের চিকিত্সক।
বিএমএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সারাদেশে করোনা ভাইরাসে ৫ হাজার ৯১৩ জন আক্রান্তের পাশাপাশি মারা গেছেন ১৫২ জন। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এক জন চিকিত্সকও মারা গেছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ বাড়লে চিকিত্সাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিএমএ মহাসচিব এহতেশামুল। তিনি বলেন, করোনা যুদ্ধের সম্মুখ সারির যোদ্ধারা আশঙ্কাজনকভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিত্সা পেশায় নিয়োজিত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬০, যা দেশের মোট আক্রান্তের প্রায় শতকরা ১১ ভাগ। চিকিত্সক ও চিকিত্সাসেবাদানকারী ব্যক্তিরা এই হারে আক্রান্ত হতে থাকলে সামনে চিকিত্সাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
চিকিত্সকদের সুরক্ষায় সরকারের কাছে তিনটি সুপারিশ করেছে বিএমএ। এগুলো হলো—দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোভিড-১৯ চিকিত্সায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিক মানের পিপিই, এন-৯৫ বা এর সমমানের মাস্ক সরবরাহ করা। নন-কোভিড হাসপাতালে প্রবেশে ‘ট্রায়াজ সিস্টেম’ চালু করে সেখানে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত পিপিই দেওয়া। সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিত্সকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন, প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ এবং হাসপাতালে যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে এফডিএসআর সোমবার সংবাদপত্রে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ঢাকার পর অন্যান্য বিভাগের মধ্যে- বরিশালে ৯ জন, চট্টগ্রামে ১৫ জন, সিলেটে ৫ জন, খুলনায় ১০ জন, রংপুরে ৩ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন চিকিত্সক আক্রান্ত হয়েছেন। রবিবার পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত চিকিত্সকের সংখ্যা ছিল ৩৭১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই ছিল ৩০৫ জন চিকিত্সক। এক দিনের ব্যবধানে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮৩ জনে। ফলে ২৪ ঘণ্টায় আরো ১২ জন চিকিত্সক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
