বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এখন পর্যন্ত অনুমোদন না দেওয়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যে র্যাপিড কিটস তৈরি করেছে তা দিয়ে আপাতত করোনা পরীক্ষার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেল আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটস’ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান খান এ কথা জানান। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘তারা একবারে ভুল কথা বলছেন। অজ্ঞতাবশত তারা ভুল বলছেন। তারা নিজেদের জ্ঞানের অভাবে অন্যের শেখানো বুলি বলছেন। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো ওষুধ বা এ সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির নিবন্ধন অনুমোদন দেয় না। সেটা তাদের দায়িত্ব না।’
হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশকেই করোনা শনাক্তের জন্য র্যাপিড কিটস অনুমোদন দেয়নি। এক্ষেত্রে গণস্বাস্থ্যের র্যাপিড কিটস পরীক্ষারও আপাতত কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অনুমোদিত ও নির্দেশিত হলে গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণে সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না। করোনা মোকাবিলায় সরকারের কাছে ১ লাখেরও বেশি কিটস মজুত আছে।’ ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহাবুবুর রহমান সরকারের পক্ষে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে ওষুধ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বেশ কিছু চিঠি সরকারকে দিয়েছে। সেগুলো তুলে ধরে মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে গণস্বাস্থ্যকে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সরকারের কোনো প্রটোকল আজ পর্যন্ত মেইনটেইন করেনি।’
সংবাদ সম্মেলনের পর ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেন, ‘ওষুধ বা যন্ত্রপাতির অনুমোদনের দায়িত্ব নিজ নিজ দেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়। আমাদের দেশেও আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ওষুধ প্রশাসন আছে অনুমোদন দেওয়ার জন্য। অবশ্য ডব্লিউএইচওর কিছু গাইডলাইন ও তথ্য আছে। তবে তারা কোনো কিছুর রেজিস্ট্রেশন দেয় না।’ তিনি বলেন, ‘এটা পরীক্ষার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুরোধ করতে হবে সরকারকে। আমাদের ওষুধ প্রশাসন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে যদি বলে, পরীক্ষা করে এটার কোয়ালিটি দেখেন, তারা করে দেবে। এই চিঠি লেখার দায়িত্ব হলো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটের অনুমোদন বাংলাদেশ সরকার অনুমোদন না দিলেও একই জাতীয় কিটের অনুমোদন ভারত সরকার দিয়েছে।’
এর আগে রবিবার সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সম্পূর্ণ গাইডলাইন মেনেই আমরা সবকিছু করেছি। তার পরও যখন যুদ্ধ চলে সেই গোলাগুলির মাঝখানে এসব কথাবার্তা মূর্খতার শামিল। দেশে এক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। করোনার সঙ্গে আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি, সেখানে অবান্তর কথাবার্তা বলে সরকার ও জনগণকে মিসগাইড করছেন তারা।’ বিশ্বে কোনো দেশে র্যাপিড কিট অনুমোদন দেয়নি? ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এমন বক্তব্যের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, গতকাল ভারতে এটি পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানে এই কিটস ব্যবহূত হচ্ছে এবং প্রতিদিন ১০ লাখ কিট উত্পাদন করা হয়। ওষুধ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অনেক কিছু গোপন করেছেন বা তিনি অনেক কিছু জানেন না।
