রমজানের এই সময়টাতে রাজধানীর অভিজাত শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সেই শপিংমলগুলোর চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিটি শপিংমল-মার্কেটের গেটে ঝুলছে তালা। জনশূন্য প্রতিটি মার্কেট।
রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, চাঁদনী চক, গাউসিয়া, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স, নুরজাহান প্লাজা, প্রিয়াঙ্গন শপিং কমপ্লেক্স, গ্লোব শপিং সেন্টার, আড়ং, রাপা প্লাজা, এ আর প্লাজা, জেনেটিক প্লাজা, অর্কিড প্লাজা, আজিজ সুপার মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মার্কেটগুলোর অচেনা রূপ।
রমজানের এই সময়ে প্রতিটি শপিংমল সাজানো হয় রঙিন কাপড়-কাগজ আর রংবেরঙের বাতি দিয়ে। সন্ধ্যা থেকে আলোকসজ্জায় এক অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি বিরাজ করে শপিংয়ে। রোজার এই সময়টাতে প্রত্যেকটি ফ্যাশন হাউজ তাদের নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। অথচ অদেখা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে জনগণ এখন নিজ ঘরে চারদেয়ালে বন্দি। তাদের মধ্যে নেই বৈচিত্র্যময় পোশাকের আকর্ষণ।
অন্য বছরগুলোতে সারাদিন ক্রেতাদের কমবেশি উপস্থিতি থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতার আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠত শো-রুমগুলো। কিন্তু এখন সন্ধ্যার পর শপিংমলগুলোর সামনে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করে। ঘুটঘুটে অন্ধকার, সড়কের কয়টি সোডিয়াম লাইটের আলো ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না।
মোবাইল ফোনে কথা হয় গাউসিয়ার থান কাপড় ব্যবসায়ী আমজাদ হোসের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসাটা শুরুই হয় রমজান শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে। কারণ এ সময়টাতে থানকাপড় কিনে পোশাক তৈরি করেন নারীরা। আর অনেক নামি-দামি টেইলারও রমজানের শুরুতে তাদের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের ব্যবসায়ীদের অবস্থা একেবারে পথে বসার মতো। তিনি বলেন, বছর জুড়ে বৈশাখ আর ঈদকে ঘিরে আমাদের বেচাকেনা হয় সবচেয়ে বেশি। এবার বৈশাখ এবং ঈদে কোনো কেনাবেচা নেই। এই ক্ষতি আমরা কীভাবে পুষিয়ে নেব তা এখনো বুঝতে পারছি না।
