করোনার প্রভাবে মানসিক চাপে ৯১ শতাংশ শিশু

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৩

করোনা দুর্যোগের প্রভাবে শতকরা ৯১ ভাগ শিশু ও তরুণ মানসিক চাপ ও যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব আরোপের কারণে মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন অবস্থায়ও কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের লড়াইয়ে অবদান রাখতে চায় শিশুরা। এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এক জরিপে।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ শিশু ও তরুণদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলেছে তা জানতে বিগত দুই মাসে উন্নয়নশীল ১৩টি দেশে এ জরিপ পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক শিশুকেন্দ্রিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। শিশু ও তরুণদের অংশগ্রহণে ‘চিলড্রেন ভয়েসেস ইন দ্যা টাইম অফ কোভিড-১৯’ শিরোনামে এই জরিপে দেখা যায়, শিশুরা এই পরিস্থিতিতে মানসিক বেদনা ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক এই মহামারি প্রতিরোধে তারাও ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।

মহামারির সময়ে জীবনে ছন্দ পতনের জন্য সরাসরি তিনটি কারণকে উল্লেখ করেছে জরিপে অংশ নেওয়া শিশুরা। কারণগুলো হলো : শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, সামাজিক দূরত্বের কারণে মানসিক বেদনা এবং পরিবারে আর্থিক অনটন বেড়ে যাওয়া । শতকরা ৭১ ভাগ শিশু ও তরুণ বলছে স্কুল বন্ধের কারণে তারা নিজেদের বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ অনুভব করছে ।

করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা হারিয়ে ফেলায় শিশু ও তরুণরা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লকডাউন প্রসারিত ও দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধাবঞ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছে না, যা তাদের অনেক সহপাঠী করছে। পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি শিশু স্কুলমিল (স্কুল থেকে দেওয়া খাবার) থেকে এখন বঞ্চিত। অভিভাবকরা জীবিকা হারিয়ে সন্তানদের খাবার জোগাড়ে অক্ষম। শিশুরা বলেছে, এ পরিস্থিতে দ্বিধা, ভয় এবং হতাশা থেকে তারা বন্ধু এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছে না।’ বলছেন ওয়ার্ল্ড ভিশন পার্টনারশিপের অ্যাডভোকেসি ও এক্সটার্নাল এনগেজমেন্টের প্রধান ডানাবুজ ডুসিয়ে।

 যেসব দেশে জরিপ পরিচালিত হয়েছে সেখানে দারিদ্র্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব বিদ্যমান যা কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংকট আরো বাড়িয়ে তুলছে। ফলে শিশুদের মনেও উদ্বেগ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৯১ ভাগ শিশু স্বীকার করেছে এই অনিশ্চয়তা এবং বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে তারা উদ্বেগ, রাগ ও শঙ্কাসহ নানা ধরনের মানসিক চাপে রয়েছে। এই জরিপে দেখা যায়, যদিও কোভিড-১৯ শিশুদের ওপর সন্দেহাতীতভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তবুও তাদের কমিউনিটি বা সম্প্র্রদায়কে সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষা বা ক্ষমতা কোনোটাই কমাতে পারেনি।