দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
করোনা ভাইরাস মহামারির শুরু থেকেই মানুষের পাশে থাকার জন্য একটার পর একটা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তামিম ইকবাল। কখনো ক্রিকেটারদের এক করেছেন তহবিল সংগ্রহের জন্য, কখনো অন্যের উদ্যোগে পৌঁছে দিয়েছেন অর্থ। এবার নিজে নিলেন অসামান্য এক উদ্যোগ। করোনার এই সময়ে ক্রিকেটের বাইরের বিভিন্ন খেলায় যেসব বিপন্ন খেলোয়াড় আছেন, তাদেরই প্রায় ১০০ জনের কাছে পৌঁছে দিলেন সাহায্য।
প্রথমেই যখন করোনা ভাইরাসের আক্রমণে দেশ আক্রান্ত হলো, তখন তামিম উদ্যোগ নিয়েছিলেন সব জাতীয় ক্রিকেটারকে নিয়ে। তারা বেতনের একটা অংশ দান করেছিলেন দুস্থ মানুষের জন্য। এপর নিজের উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অ্যাথলেট সামিউল ইসলামের। পরে নারায়ণগঞ্জে নাজমুল ইসলাম অপুকে দুই দফা অর্থ সাহায্য করেছেন তার স্বেচ্ছাসেবার কাজে। মোহাম্মদপুরের স্বেচ্ছাসেবী নাফিসা আনজুম মানুষের বাড়ি বাড়ি সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছেন; সেখানেও অর্থ পাঠিয়েছেন তামিম।
এবার বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ওয়ানডে অধিনায়ক সিদ্ধান্ত নেন ক্রিকেটের বাইরে বিভিন্ন খেলার বিপদে থাকা খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সে জন্য তিনি তার এক কোচ হুমায়ুন কবির শাহীনের সঙ্গে আলাপ করেন। এরপর এই উদ্যোগে জড়িত হন এস এ গেমসে সোনাজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন, জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ, ক্রিকেটার মিজানুর রহমানসহ কয়েক জন। তারা মিলে তৈরি করেন এক তালিকা।
এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ফুটবলার, অ্যাথলেট, হকি খেলোয়াড়, সাঁতারু, ভারোত্তোলক, জিমন্যাস্ট; প্রায় সব ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ অ্যাথলেট কমিশনের সদস্য মাহফুজা খাতুন জানতেন, কারা সত্যিকারের দুস্থ খেলোয়াড়। তার জন্য এই তালিকা করা তাই সহজ হয়েছে।
মাহফুজা বললেন, এমন একটা উদ্যোগ দেখে ও এর অংশ হতে পেরে তিনি অভিভূত হয়ে গেছেন, ‘আমি ২০০৩ সাল থেকে অ্যাথলেটদের নিয়ে কাজ করছি। আজ পর্যন্ত কোনোদিন কোনো খেলোয়াড়কে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখিনি। এটা বিস্ময়কর ঘটনা। সে ক্রিকেটের বাইরের ডিসিপ্লিনগুলো নিয়ে যেভাবে চিন্তা করেছে, তা সত্যিই খুব মানবিক ব্যাপার।’
সাবেক সাতারু মাহফুজা জানান, তামিমের এই উদ্যোগের আরো একটা বাড়তি দিক আছে। তামিম শুরু থেকেই মাহফুজাদের বলেছেন, তিনি নারী ক্রীড়াবিদদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে চান। মাহফুজা বলছিলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ নারী অ্যাথলেটের পরিবারে সে ছাড়া আর কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। ফলে এরা সত্যিকারের বিপদে ছিল। তামিম এটা বিশেষভাবে মাথায় নিয়েছেন।’
গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৯১ জন ক্রীড়াবিদের তালিকা হয়েছে। মাহফুজা জানান, এই সংখ্যা ১০০ পার হয়ে যেতে পারে। সবাইকেই মূলত অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলছিলেন, ‘আমরা জানি না, কার কিসের অভাব। কারো হয়তো ওষুধ কিনতে হবে। তাই তামিম বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট জিনিস না পাঠিয়ে টাকা পাঠানো ভালো।’
এ ব্যাপারে তামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগের কথা সত্যি। কিন্তু তিনি এ নিয়ে কথা বলতে চান না। মাহফুজাও বললেন, ‘তামিম এটা প্রকাশ্যে আনতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু এই জায়গাটায় আমরা তার কথা শুনিনি। কারণ, তার মতো বা তার চেয়ে বেশি সামর্থ্য এই ক্রীড়াঙ্গনে আরো অনেকের আছে। তামিমের এই কাজের কথা জেনে আরেকজন যদি অনুপ্রাণিত হয়, সেটাও হবে বড়ো পাওয়া।’
