দেশের ৮ ফুট ৬ ইঞ্চির দীর্ঘ মানব কক্সবাজারের রামুর জিন্নাত আলী আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর। রামুর গর্জনিয়ার বড়বিল গ্রামের বর্গাচাষি আমীর হামজার (৬০) ছেলে জিন্নাত আলী। তার এক মেয়ে, তিন ছেলের মধ্যে জিন্নাত আলী তৃতীয়। জিন্নাত আলীর ভাই মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, ‘জিন্নাত দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কে টিউমারজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়াও তার ডায়াবেটিসও ছিল।’ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।
চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান নোমান খালেদ চৌধুরী জানান, গত সোমবার দুপুরে জিন্নাত আলীকে অজ্ঞান অবস্থায় আনা হয়। তখনই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। ঐ সময় ভেন্টিলেটর দিয়ে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। ভোরে তিনি মারা যান।’ তিনি বলেন, ‘অল্প বয়সে হাঁড় সুগঠিত হয়ে জোড়া লাগার আগেই হরমোন সিক্রেশনের কারণে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়। এটা জায়গানটিজম। পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে হরমোনাল ইমব্যালান্সের কারণে উনার বড়ো আকারের পিটুইটারি টিউমার হয়েছিল।’
রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, জিন্নাতের ১২ বছর বয়স থেকে দুই-তিন ইঞ্চি করে আকৃতি বাড়তে থাকে। তার উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি। গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাফেজ আজমদ জানান, ‘২০১৮ সালে সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল চিকিত্সার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত্ করিয়ে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ৫ লাখ টাকা অনুদান দেন। একই সঙ্গে তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করানোর নির্দেশ দেন। এসময় ডাক্তাররা তার মাথার টিউমার অপারেশনের উদ্যোগ নিলে বেঁকে বসেন জিন্নাত ও তার পরিবারের সদস্যরা। মারা যাওয়ার আশঙ্কায় অপারেশন করতে রাজি হয়নি তার পরিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জিন্নাত আলীকে পাকা ঘর ও স্থানীয় বাজারে একটি দোকানও দেওয়া হয়।’
