মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন ভেন্টিলেটর বা অক্সিজেন সরবরাহকারী যন্ত্র। কিন্তু পৃথিবী জুড়ে এর ব্যাপক স্বল্পতা। এ অবস্থায় মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশেই ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। ইতোমধ্যে ৩ মডেলের ভেন্টিলেটরের ফাংশনাল প্রোটোটাইপ তৈরি করেছে তারা। যা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য আইসিটি বিভাগকে হস্তান্তর করেছে ওয়ালটন। বিশ্ব যখন করোনা নিয়ে আতঙ্কিত, তখন বাংলাদেশে ভেন্টিলেটর তৈরির খবর সবার মনে কিছুটা হলেও স্বস্ত্বি নিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।
এর আগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোল্ড তৈরি করে ফেস প্রোটেকটিভ শিল্ড এবং সেফটি গগলস উত্পাদন শুরু করে ওয়ালটন। খুব শিগগিরই এন্টি-ফগ প্রযুক্তির গগলস তৈরি করতে যাচ্ছে তারা। এছাড়া, পিএপিআর (পাওয়ার এয়ার পিউরিফায়ার রেসপিরেটর), ইউভি ডিসইনফেকট্যান্ট, রেসপিরেটরি মাস্ক ইত্যাদি চিকিত্সা সরঞ্জাম তৈরিতে ওয়ালটন কারখানায় পূর্ণদ্যমে কাজ চলছে।
গত মঙ্গলবার সরকারের আইসিটি বিভাগকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ভেন্টিলেটরগুলো হস্তান্তর করা হয়। অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। উপস্থিত ছিলেন এলআইসিটির সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. তৌফিক হাসানসহ ওয়ালটন ও মেডট্রনিক্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচানোর জন্য খুবই প্রয়োজনীয় যন্ত্র ভেন্টিলেটর। বিশ্বজুড়েই ভেন্টিলেটরের সংকট রয়েছে। সে কারণেই আমরা দেশে ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যেগ নিই। এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দিচ্ছে মেডট্রনিক্স এবং ওয়ালটন। ওয়ালটনের ভেন্টিলেটর প্রকল্পের ডেপুটি হেড প্রকৌশলী তৌফিক-উল-কাদের জানান, ওয়ালটনের উদ্ভাবিত ভেন্টিলেটরের মডেল দুটির নাম যথাক্রমে ‘ডব্লিউসিভি-২০’ এবং ‘ডব্লিউএবি-২০’। ‘ডব্লিউসিভি-২০’ মডেলে ‘পিবি৫৬০’ এর তিনটি মোড-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি অর্থাত্ এসিস্টেড কন্ট্রোল এবং সিনক্রোনাইজড ইন্টারমিটেন্ট ম্যান্ডেটরি ভেন্টিলেশন (এসআইএমভি) বিদ্যমান। আর আম্বুব্যাগ ব্যবহার করে তৈরিকৃত ‘ডব্লিউএবি-২০’ ভেন্টিলেটরটিতে প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেনের অনুপাত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল এবং অনুমোদনের ভিত্তিতে উত্পাদনে যাবে ওয়ালটন।
