করোনা আক্রান্ত আত্মগোপনে খুঁজছে প্রশাসন-স্বাস্থ্য বিভাগ

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৪

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

আইসোলেশনে নেওয়ার আগেই বগুড়ায় করোনা ‘পজিটিভ’ এক ব্যক্তি মুঠোফোন বন্ধ করে লাপাত্তা হয়েছেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা হন্যে হয়ে খুঁজছেন তাকে। তবে বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলেনি। তার দেওয়া ঠিকানা ভুয়া। আবার মুঠোফোনও বন্ধ। ফলে ঐ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন (সঙ্গনিরোধ) করা সম্ভব হয়নি। আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িও ‘লকডাউন’ (অবরুদ্ধ) করা যায়নি।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে মাত্র একটি পরীক্ষার প্রতিবেদন ‘পজিটিভ’ আসে। এ ছাড়া পাঁচটি নমুনা দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। করোনা ‘পজিটিভ’ ঐ ব্যক্তি বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা বলে তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি ঢাকায় একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মী। দুদিন আগে তিনি বগুড়ায় ফেরেন। তার শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই। তবে ঢাকা ফেরত হওয়ায় নিজেই মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে নমুনা দিয়ে আসেন। ল্যাবে পরীক্ষায় করোনা? ‘পজিটিভ’ প্রতিবেদন আসার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাকে বাসায় থাকতে বলা হয়। এরপর থেকে মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ঐ ব্যক্তির দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে বাড়ি খুঁজে পাননি। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার অবস্থানও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় পৌরসভা কাউন্সিলর থেকে শুরু করে এলাকার কেউই ঐ ব্যক্তির সন্ধান দিতে পারেননি। একপর্যায়ে নামের সঙ্গে মিল থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেন তারা। এভাবেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ঐ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোতারব হোসেন জানান, ঐ ব্যক্তির চিকিত্সার পাশাপাশি সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য তার বাড়ি লকডাউন করা জরুরি। কিন্তু তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম বলেন, করোনায় আক্রান্ত ঐ ব্যক্তিকে প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা হন্যে হয়ে খুঁজছেন। এখন পর্যন্ত তার কোনো হদিস মেলেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মসজিদে মাইকিং করে তার সন্ধান চেয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, করোনা? ‘পজিটিভ’ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে পুলিশ ঐ ব্যক্তিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। তার সন্ধানে পুলিশের তত্পরতা অব্যাহত আছে।