করোনা রোগের নতুন উপসর্গ!

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১৩

করোনা ভাইরাসের রোগ ঠেকানো তো দূরের কথা, এর নিত্যনতুন উপসর্গ আরো বিভ্রান্ত করে তুলছে গবেষক-চিকিত্সকদের। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দেশকাল ভেদে করোনার উপসর্গও পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রাথমিক যেসব উপসর্গের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, সে সবের পরেও নতুন আরো কিছু লক্ষণের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসে নতুন এসব উপসর্গের কথা।

সিডিসির গবেষকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলেও সতর্ক থাকতে হবে রোগীকে। ধরে নিতে হবে, করোনা সংক্রমণকে সন্দেহের তালিকায় এনে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা          করতে হবে। এদিকে ইংল্যান্ডের চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা অর্থাত্ গন্ধ নিতে না পারার ক্ষমতাও করোনা সংক্রমণের একটি লক্ষণ। ইংল্যান্ডে হঠাত্ শুধুই ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলা কয়েক জনের রক্ত পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিত্সকদের পর্যবেক্ষণেও এ উপসর্গের কথা জানিয়েছে।

কোভিড-১৯-এর নয়া উপসর্গ হিসেবে দেখা দিচ্ছে ত্বকের কিছু সমস্যা। মূলত, হাতে-পায়ে-বুকে পিঠে ‘র্যাশ’ জনিত সমস্যা। শিশু ও কম বয়সিদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিচ্ছে বেশি। চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোভিড ফিট’। বিদেশি জার্নাল একে ‘অ্যাকিউট অ্যাক্রোইস্কিমিয়া’ বলেও উল্লেখ করছে। এই লক্ষণে হাত বা পায়ের একটা নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে প্রথম লালচে ফোস্কার মতো আকার নেয়। সেই অংশের রংও ধীরে ধীরে বদলে যায়। চুলকানিও থাকে। পায়ের পাতা, হাতের তালু, হাত-পায়ের আঙুলেই এই সমস্যা বেশি হয়। গবেষকদের দাবি, হাত-পায়ের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রক্তবাহী নালির মধ্যে আণুবীক্ষণিক রক্ত জমাট বেঁধে এই সমস্যা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে আরো অনেক গবেষণা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। ‘দ্য জার্নাল অব দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথ্যালমোলজিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মোট কোভিড আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ১ থেকে ৩ শতাংশের এই উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। এই উপসর্গকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘পিঙ্ক আই’। তবে গবেষকদেকর মতে, জ্বর, গলাব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট কিছুই নেই, শুধু কনজাংটিভাইটিসের উপসর্গ আছে এমন হলে তা ততটা ভয়ের নয়। কিন্তু করোনা উপসর্গগুলোর মধ্যে যে কোনো একটি বা দুটি লক্ষণের সঙ্গে পিঙ্ক আই থাকলে তা চিন্তার বিষয়। সাধারণ পিঙ্ক আই দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। কখনো আর একটু বেশি সময় লাগে।