ফরিদপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া প্রথম তিন জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তারা নিজ নিজ বাড়ি ফেরেন। এসময় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বিদায় জানান। এরপর আক্রান্তদের গ্রামগুলো থেকে লকডাউন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা এই তিনজন হলেন, নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ডাঙ্গি গ্রামের আব্দুল খলিলুর রহমান বেপারী (৬২), তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার বুলু (৪৮) ও বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনী গ্রামের মো. শাহাবুদ্দিন (৪৭)।
এদের মধ্যে খলিলুর রহমান গত ১৩ এপ্রিল করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। তার এক সপ্তাহ আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে ফেরেন। ঢাকার আইসিসিআরে তার নমুনা পাঠানোর পর করোনা পজিটিভ আসে। তার সাথে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ঢাকা ফেরত আরো একজন। তাদেরকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর নগরকান্দা উপজেলা লকডাউন করা হয়।
এর চারদিন পর করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পর পজিটিভ আসে খলিলুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন আক্তারের। ওই দিন বোয়ালমারীর শাহাবুদ্দিনের করোনা পরীক্ষার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদেরও ফমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন বোয়ালমারীর চন্দনা গ্রামটি লকডাউন করে স্থানীয় প্রশাসন।
ফমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বুলু জানান, দু’দফায় তাদের করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর আমরা তাদের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। গত প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করার পর হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার সময় ডাক্তার ও নার্সদের ফুলের অভিনন্দন পেয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন রোগীরা।
এদের একজন খলিলুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে আসার পর থেকে অনেক ভয়ে ছিলাম। আমার পরে যখন বাড়ির আরেকজন করোনা আক্রান্ত হলো তখন ভয় আরো বেড়ে গিয়েছিলো।’ তিনি বলেন, ‘শরীরে যখন জ্বর বেড়ে যেত তখন খুব কষ্ট পেতাম। তবে আল্লাহর রহমতে খারাপ কিছু হয়নি।’
আরো পড়ুন: সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার
ডা. মাহফুজুর রহমান বুলু ছাড়াও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা ডা. আসাদুল হক সুমন, ডা. কামরুজ্জামান, সিনিয়র স্টাফ নার্স আফসানা আক্তার, কাকলি খাতুন, মর্জিনা খাতুন, লাভলী আক্তার, রেহেনা ও ফারজানা সুস্থ হয়ে পড়া তিনজন রোগীকে তাদের বিদায় মুহূর্তে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ফমেকের ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার এই খবরে সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এ ঘটনাকে তাদের জন্য বড় কেস স্টাডি হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।
ফমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, বর্তমানে সেখানে দু’জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫ জন।
ইত্তেফাক/এএএম
