প্রকৃতির বন্ধু করোনা পর্ব-২

ইউরোপের বাতাসে দিন দিন কমছে নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড

আপডেট : ০১ মে ২০২০, ০২:৩২

২০১৯ এর ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে প্রাদুর্ভাব ঘটে করোনা ভাইরাসের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে পরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোভিড-১৯ নামকরণ করে। ধারণা করা হয়, উহানের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি। এখন পর্যন্ত ২১২টি দেশের প্রায় ৩৩ লক্ষ মানুষ করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে । এই ভাইরাসে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। করোনায় একদিকে যেমন লকডাউনে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ ঠিক তেমনি এর প্রভাবে পড়েছে পরিবেশের ওপরেও। পরিবেশের ওপর করোনার প্রভাব এবং ধারাবাহিক চার পর্বের  দ্বিতীয় পর্ব আজ।

করোনার কারনে চীন লকডাউনের পর গত ৯ মার্চ ইউরোপের দেশ  ইতলি তাদের লকডাউন ঘোষণা শুরু করে। প্রায় ৬ কোটি বাসিন্দা কে তারা ঘরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়। মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে স্পেন, ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম লকডাউন শুরু করে।  যুক্তরাজ্য লকডাউন করা হয় গত ২৪ শে মার্চ ।

পুরো ইউরোপ লকডাউন করার ফলে স্থানীয় এবং আঞ্চলিক বায়ু দূষণের প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।  কোপার্নিকাস সেন্টিনেল ৫ পি স্যাটেলাইট সংস্থাটি সম্প্রতি ইউরোপ এবং চীন জুড়ে যে এলাকা গুলোতে বায়ু বেশি দূষিত হয় তাদের একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে এতে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড ঘনত্বের উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ করেছেন তারা। নতুন এই ম্যাপে ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতে বিশেষ করে মিলান, প্যারিস এবং মাদ্রিদে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ঘনত্বের হ্রাস বেশি লক্ষ করা যায়।


কোপার্নিকাস এটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (সিএএমএস) বায়ু দূষণের প্রতি ঘন্টার ঘনত্বের বিশ্লেষণ সরবরাহ করে। এই সংস্থা টি জানায়, কোভিড ১৯ এ ইউরোপ লক ডাউনের কারণে তারা স্যাটেলাইট থেকে বাতাসের ঘনত্বের পরিবর্তন গুলো লক্ষ করছে। উত্তর ইতালিতে লক্ষ করে দেখা যায়, দূষণকারী নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড   এর ঘন পৃষ্ঠ গত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০% করে হ্রাস পেয়েছে।

সম্প্রতি ইউরোপ লকডাউনের কারণে ওই এলাকার বায়ু স্তরে কতটুকু পরিবর্তন এসেছে তা নাসা একটি পযবেক্ষনে তুলে ধরেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায় মিলান শহরে, ১লা জানুয়ারির পর থেকে  নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ঘণত্ব সীমার নীচে দেখা যায়। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড একটি স্বল্প-কালীন দূষণকারী গ্যাস। একবার নির্গত হয়ে গেলে, এটি একদিনেরও কম সময় ধরে বায়ুমণ্ডলে অন্যান্য গ্যাসগুলির সাথে জমা হয়ে থাকে। এর বেশিরভাগ নির্গমন হয় ভূ-পৃষ্ঠে থেকেই এবং মানুষের বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজ যেমন ট্রাফিক, জ্বালানি উত্পাদন, শিল্প-কারখানা থেকেই বেশি তৈরি হয়। 

মিলানের ক্ষেত্রে, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড  গড় ঘনত্ব জানুয়ারীতে ৬৫ গ্রাম পারদ পার মিটার কিউব, ফেব্রুয়ারিতে ৫০ গ্রামপারদ পার মিটার কিউব এবং মার্চের প্রথমার্ধে ৪০ গ্রাম পারদ পার মিটার কিউব এর ও কম ছিল। সপ্তাহ ধরে হ্রাসের প্রবণতা গড়ে ৪ গ্রাম পারদ মিটার পার কিউব। 

আবার ইউরো নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলছে মার্চ মাসে ইউরোপের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি বেড়েছে,গত মার্চ মাসে ইউরোপে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯৮১-২০১০ গড়ের চেয়ে প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার অংশগুলিতে পরিসংখ্যান করে দেখা যায়। ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে মাসের গড় তাপমাত্রার তুলনায় ৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি ছিল, অন্যদিকে রাশিয়ার কিছু অংশে তাপমাত্রা গড়ে 8 ডিগ্রি বেশি ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ গবেষণা বিভাগের প্রধান ওকসানা তারাসোভা বলেছেন যে, ‘বায়ুমণ্ডলে কার্বন- ডাইঅক্সাইডের মাত্রা এখনো রেকর্ড পরিমাণ আছেএবং গ্রীন-হাউজ প্রক্রিয়াও অব্যহত আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কারনডাইঅক্সাইড নির্গমন হার যতটুকু কমেছে তাতেই বেশ কিছু দেশ এ বছর কিছু প্রাকৃতিক পরিবর্তন দেখতে পাবে, যদিও এটি সামান্য শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্য সহ উত্তর ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে - তবে বিজ্ঞানীরা পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে বৃহত্তর পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন”।

ইত্তেফাক/এআর