গত কয়েক দিন আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে পঙ্গপাল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। টেকনাফে বিভিন্ন জায়গায় পঙ্গপালের মতোই পোকার অস্তিত্বও লক্ষ্য করা যায়। তবে টেকনাফে যাওয়া গবেষকদের দাবি ঐ পোকাগুলো পঙ্গপাল নয়, এটি ঘাসফড়িংয়ের একটি প্রজাতি। শনিবার (২ মে) এমন তথ্য দেন টেকনাফে যাওয়া গবেষক দলের সদস্যরা।
এর আগে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামে দেখা যাওয়া পোকা পঙ্গপাল জাতীয় কোন পোকা নয়। এটি তেমন ক্ষতিকর নয় মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এ নিয়ে গবেষণার জন্য কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেই সঙ্গে সকলকে আতঙ্কিত না হতে অনুরোধও জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে টেকনাফ উপজেলার লম্বরী গ্রামের কয়েকটি গাছে ঘাসফড়িংয়ের মতো কিছু ছোট পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করে পোকাগুলো দমন করেন।
অতিসম্প্রতি ঘাসফড়িং সদৃশ এসব পোকা আবারও দেখা দিলে কৃষি মন্ত্রণালয় এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। শুক্রবার সকালেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি দল টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পাশাপাশি, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকেও পৃথক পৃথক টিম রওয়ানা দিচ্ছে। ঘাসফড়িং সদৃশ লোকাস্ট গোত্রের স্থানীয় এই পোকার শনাক্তকরণসহ আক্রমণ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও ধ্বংসে এই টিম কাজ করবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের উপপরিচালকের বরাত দিয়ে এতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার কীটনাশক স্প্রে করার পর গাছে থাকা পোকাগুলো মারা যায়। সেখানে আর কোন জীবিত পোকা নেই।
এদিকে, সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আয়োজিত কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় পঙ্গপালের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
কক্সবাজারে পঙ্গপাল এসেছে এই ধারণা ঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে পঙ্গপাল আসার নজির নেই। এটি সাধারণত পাকিস্তান ও ভারতের রাজস্থান পর্যন্ত আসে। এদেশে আসার সম্ভাবনা কম। তবু বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কক্সবাজারে বিজ্ঞানীদের পাঠানো হয়েছে।
কী পোকা এসেছে এবং তা কতটুকু ক্ষতিকর; সেটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। এবং তাদের মতামত নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।
ইত্তেফাক/এসআই
